WELCOME TO SOBUJCHHATA HEALTH CARE LTD
Emergency Line: 01 924 511 777 info@sobujchhata.com Webmail

Medicine Description

রোগী পরীক্ষা পদ্ধতিঃ- সঠিকভাবে রোগ নিরুপন না করে কখনও চিকিৎসায় অগ্রসর হওয়া উচিত নয় । কাজেই চিকিৎসকের জানা উচিত রোগীর দেহের কি কি পরীক্ষা করতে হয় । সাধারণতঃ রোগী পরীক্ষা করার সময় রোগীর দেহের তাপ, নাড়ি, শ্বাস-প্রশ্বাস, জিহ্বা, টনসিল, চোখ, লিভার, প্লীহা ইত্যাদী দেখতে হয় । প্রস্রাব-পায়খানায় রোগীর কোন কষ্ট আছে কি না, কিংবা রোগীর দেহে কি কষ্ট হচ্ছে ও কি কি লক্ষণ প্রকাশ পাচ্ছে, তা ভালভাবে জানা ও দেখা উচিত । প্রয়োজনবোধে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ল্যারেটরীতে রোগীর রক্ত, মল-মূত্র, থুথু, কফ ইত্যাদী পরীক্ষা করাতে হবে ।

গায়ের তাপঃ- সাধারণতঃ একজন সুস্থ্য ব্যক্তির গায়ের তাপ বগলের নীচে ৯৭.৪ ডিগ্রী এবং জিহ্বার নীচে উহার চেয়ে এক ডিগ্রী বেশী হয় । বৃদ্ধ ব্যক্তির সামান্য কম এবং শিশুদের বেশী হয় । যদি ইহার চেয়ে শরীরের তাপ বেশী হয়, জ্বর বুঝতে হবে । তবে শরীরের তাপ ৯৮ ডিগ্রী থাকলেও উহা জ্বর বলে গণ্য হবে না । আবার তাপ খুব কম হলে রোগীর কোলাপঅস হবার সম্ভবনা থাকে ।
স্বাভাবিক শরীরের তাপমাত্রাঃ- ৯৮.৬° ফারেনহাইট (৩৭° সেলসিয়াস) । যখন ১.৮° ফারেনহাইট বাড়বে তখনই জ্বর / ফিবার বলা হয় ।
১. লো গ্রেড ফিবার লেভেলঃ- ১০০-১০১° ফারেনহাইট ।
২. ইন্টারমিডিয়েট গ্রেড ফিবার লেভেলঃ- ১০২° ফারেনহাইট ।
৩. হাই গ্রেড ফিবার লেভেলঃ- ১০৩-১০৪° ফারেনহাইট ।
৪. হাইপারপাইরেক্সিয়া হাই ফিবারঃ- ১০৪-১০৭° ফারেনহাইট ।

(রক্তচাপ- Blood Presure):- চিকিৎসার ক্ষেত্রে চাপমান যন্ত্র ও ষ্টেথিসস্কোপের দরকার হয়ে থাকে । যন্ত্রের ব্লাডার ব্যান্ডটি হাতের বাইসেপ ও ট্রাইসেফ পেশীতে (বাজুতে) বাধা হয় এবং ষ্টেথিসস্কোপের সাহায্যে ফোসা-এর উপর শব্দ এবং সেই সাথে চাপমান যন্ত্রের রিডিং মিলাইয়া রক্তচাপ বের করতে হয় । স্বাভাবিকের তুলনায় কম হলে নিম্ন রক্তচাপ এবং বেশী হলে উচ্চ রক্তচাপ বলে । চাপ দুই প্রকার ।

সংকোচন চাপ (Systolic):– হৃদপিন্ড বাম নিলয় হতে শিরার মাধ্যমে সারা দেহে অক্সিজেন যুক্ত রক্ত ছড়িয়ে দেয় ।

প্রসারন চাপ (Diastolic) :– সমস্ত শরীর হতে রক্ত ধমনীর মধ্য দিয়েবাম অলিন্দের মধ্য দিয়ে হৃদপিন্ডে ফিরে আসে ।
১. নরমাল ব্লাড প্রেসার / স্বাভাবিক রক্তচাপ লেভেলঃ- ১২০ / ৮০ মিলি মিটার মার্কারী ।
২. হাই – ব্লাড প্রেসার / উচ্চ রক্তচাপ লেভেলঃ- ১৪০ / ৯০ মিলি মিটার মার্কারী বা আরো বেশি ।
৩. লো – ব্লাড প্রেসার / নিম্ন রক্তচাপ লেভেলঃ- ৯০ / ৬০ মিলি মিটার মার্কারী বা কম ।
সাধারণ নিয়মে- সংকোচন চাপ (Systolic) = বয়স + ৯০ এবং প্রসারন চাপ (Diastolic) = সংকোচন চাপ (Systolic) – ৪০/৫০ ।
উপরুক্ত হিসাবের ৫ বা ১০ কমবেশী হলে মারাত্মক নয় । কিন্তু তার চেয়ে কমবেশি হলে চিকিৎসার প্রয়োজন এবং সাবধানতা অবলম্বন প্রয়োজন ।
নাড়ী (Pulse) / স্পন্দন গতিঃ- হৃদপিন্ডের সংকোচন প্রসারনের জন্য ধ্বমনীতে যে স্পন্দন অনুভূত হয়, তাকে নাড়ী বা স্পন্দন গতি বলে ।

স্বাভাবিক স্পন্দন গতিঃ- ৭২ বিটস / মিনিট । তবে বয়সের তারতম্যে ইহা কিছুটা পরিবর্তন হয়ে থাকে ।

অস্বাভাবিক হার্ট রিদম দুই রকমের:-
১. ব্রেডিকার্ডিয়া বা স্রেল হার্ট রিদমঃ- ৫০ বিটস / মিনিট এর চেয়ে কম ।
২. টেকিকার্ডিয়া বা ফাস্ট হার্ট রিদমঃ- ১০০ বিটস / মিনিট এর চেয়ে বেশি ।

ব্লাড সুগারঃ- স্বাভাবিক ব্লাড সুগার লেভেলঃ- ৫.৫ মিলি মোল / লিটার বা ৩.৯ – ৫.৫ মিলিমোল / লিটার এর মধ্যে ।
নন ডায়বেটিক রোগীরঃ- খাওয়ার আগেঃ- ৪-৬ মিলিমোল / লিটার । খাওয়ার ২ ঘণ্টা পরেঃ- ৭.৮ মিলিমোল / লিটার এর মধ্যে ।
ডায়বেটিক রোগীরঃ- খাওয়ার আগেঃ- ৪-৭ মিলিমোল / লিটার ( টাইপ ১ বা টাইপ ২ ডায়বেটিক্স ) ।
খাওয়ার ২ ঘণ্টা পরেঃ- ৯ মিলিমোল / লিটার এর নিচে ( টাইপ ১ ডায়বেটিক্স ) ও ৮.৫ মিলিমোল / লিটার এর নিচে ( টাইপ ২ ডায়বেটিক্স ) ।
হাইপো গ্লাইসেমিয়া লেভেলঃ- ৩.৯ মিলি মোল/ লিটার এর কম বা খাওয়ার আগে ২.৮ মিলি মোল/ লিটার এর কম
হাইপার গ্লাইসেমিয়া লেভেলঃ- ১১.১ মিলি মোল/ লিটার এর চেয়ে বেশি বা খাওয়ার আগে ৭ মিলি মোল/ লিটার এর বেশি ।
বিশেষ নির্দেশনাঃ- ১. এন্টিবায়োটিক ঔষধ রেজিস্ট্রার্ড ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া প্রয়োগ নিষিদ্ধ । অন্যান্য ঔষধ পল্লীচিকিৎসক / স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োগ করা যেতে পারে ।
২. এ্যালোপ্যথিক ঔষধ ছাড়া অন্যান্য ঔষধ রোগের প্রকোপ অনুযায়ী আধা ঘন্টা হতে এক ঘন্টা অন্তর অন্তর প্রয়োগ করা যেতে পারে । রোগের তীব্রতা হ্রাস পেলে ঔষধের স্বাভাবিক মাত্রা প্রয়োগ করা বাঞ্চনীয় । ৩. সকল ঔষধ শিশুদের নাগালের বাইরে, আলো থেকে দূরে, ঠান্ডা ও শুষ্ক স্থানে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রাখতে হবে । ৪. ঔষধ প্রদান ও সেবনের পুর্বে প্যকেটের গায়ে উৎপাদন ও মেয়াদ দেখে নিতে হবা । ৫. তরল ঔষধ সেবনের পুর্বে ঝাকিয়ে নিতে হবে ।
এ্যালোপ্যথিক ঔষধ
( প্রথম পর্যায়ের ঔষধ, সদস্যভূক্ত পরিবারের মাঝে ১৫ – ২০% ছাড়ে প্রদানের জন্য )
1. Ranitidine (রেনিটিডিন) 2. Albendazole (এ্যালবেনডাজল)
3. Omepearazole (অমিপেরাজল) 4. Amlodipine & Atenolol (এ্যামডিপিন ও এটেনোলল)
5. Paracetamol (প্যারাসিটামল) 6. Metronidazole ( মেট্রোনিডাজল )
7. Paracetamol & Caffeine (প্যারাসিটামল ও ক্যাফেইন ) 8. O.R.S ( খাবার স্যালাইন )
9. Aciclofenac BP (অ্যাসিক্লোফেনাক বিপি) 10. Calcium Carbonate ( ক্যালসিয়াম কার্বনেট )
11. Cetirizine (সেটিরিজিন) 12. Vitamin B-Complex ( ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স )
13. Clonazepam (ক্লোনাজিপাম) 14. Ferrous Fumerate ( ফেরাস ফিউমারেট )
15. Domperidone (ডমপেরিডন) 16. Ferrous Sulphate & Folic Acid

( দ্বিতীয় পর্যায়ের ঔষধ, সদস্যভূক্ত পরিবারের মাঝে ১৫ – ২০% ছাড়ে প্রদানের জন্য )
1. Rabeprazole 2. Metformin
3. Pantoprazole 4. Gliclazide
5. Esomeprazole 6. Nitazoxanide
7. Tramadol & Paracetamol 8. Fluconazole
9. Etoricoxib 10. Lactulose
11. Baclofen 12. Flavoxate HCI
13. Tiemonium Methylsulphate 14. Amlodipine
15. Ketorolac Tromethamine 16. Flupentixol & Melitracen
17. Naproxen & Esomeprazole 18. Zinc & Vitamin B-Complex
19. Ambrocol HCI 20. Vitamin B1, B6 & B12
21. Fexofenadine HCI 22. Multivitamin & Multimineral A – Z
23. Ketotifen 24. Multivitamin & Cod-liver Oil
25. Rupatadine 26. Calcium & Vitamin – D3
27. Montelukast 28. Carbonyl Iron, Folic Acid, Zinc, Vitamin B-Complex & Vitamin C

এছাড়া
1. Cefuroxime Axetil,
2. Cefuroxime Axetil & Clavulanic Acid,
3. Flucloxacillin,
4. Levofloxacin,
5. Cefpodoxime,
6. Moxifloxacin,
7. Azithromycin,
8. Cefixime,
9. Neomycin Sulphate & Bacitracin Zinc,
10. Cephradine,
11. Ciprofloxacin,
12. Amoxycillin ইত্যাদি এন্টিবায়োটিক ঔষধ রেজিস্ট্রার্ড ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্রের মাধ্যমে কোম্পানী হতে প্রদান করা হবে ।

১. Ranitidine (রেনিটিডিন)
বিবরণঃ- রেনিটিডিন অত্যন্ত কার্যকর ও হিষ্টামিন H2 রিসপটর রোধী হিসেবে দ্রুত ক্রিয়াশীল । ইহা পাকস্থলীর স্বাভাবিক ক্রিয়াশীল ও উত্তেজিত মাত্রাধিক এসিডকে বাধা প্রদান করে । রেনিটিডিনে রয়েছে তুলনামূলকভাবে দীর্ঘায়িত কার্যকারিতা । এসিড নিঃসরণকে কার্যকরভাবে ১২ ঘন্টার জন্য কমিয়ে আনতে সক্ষম খাবার বা এন্টাসিড পরিশোধনকে কোনভাবেই বাধাগ্রস্থ করেনা ।
যে সকল ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবেঃ- ডিওডেনাল আলসার, গ্যাসট্রিক আলসার, গুরুতর অসুস্থ রোগীদের আন্ত্রিক রক্তক্ষরণে সৃষ্ট আলসার নিরাময়ে, ডিসপেপসিয়া ( বদহজম ), বুকজ্বালা, আহারের পর অস্বস্তি, পেট ফাঁপা, গ্যাসযুক্ত ঢেকুর ইত্যাদি ।
মাত্রা ও ব্যাবহারবিধিঃ- প্রাপ্তবয়ষ্কঃ ১. সাধারণতঃ ১টি ট্যাবলেট / ২ চা চামচ হিসেবে সকাল ও রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে বা ২টি ট্যাবলেট. / ৪ চা চামচ রাতে এক বার রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে । এভাবে ৪ – ৮ সপ্তাহ পর্যন্ত । দীর্ঘ মেয়াদী চিকিৎসা / রক্ষণমাত্রাঃ ১টি ট্যাবলেট / ২ চা চামচ হিসেবে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে । ২. জোলিঞ্জার এলিসন সিন্ড্রোমে ১ টি ট্যাবলেট / ২ চা চামচ করে দিনে তিনবার প্রয়োজনে এই মাত্রা বাড়িয়ে দিনে ৯০০ মি.গ্রা. পর্যন্ত করা যেতে পারে ।
অপ্রাপ্তবয়ষ্কঃ প্রতি কেজি শরীরের ওজনের জন্য দৈনিক ৫ – ১০ মি.গ্রা. হিসেবে ৮ সপ্তাহ পর্যন্ত । এর পর মাত্রা অর্ধেক করে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে পরপবর্তী ৪ সপ্তাহ । অথবা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেব্য ।
গর্ভাবস্থায় ও স্তন্য দন কালে ব্যবহারঃ- সুস্পষ্ট নির্দেশনার ক্ষেত্রেই গর্ভবস্থায় ব্যবহার করা যাবে । মাতৃদুগ্ধে রেনিটিডিন নিঃসৃত হয় বলে স্তন্যদানকারী মায়েদের সতর্কতার সাথে সেবন করতে হবে ।

সতর্কতা ও বিপরীত নির্দেশনাঃ- রেনিটিডিন বৃক্কের মাধ্যমে দেহ থেকে বের হয়ে যায়, সে জন্য বৃক্কের কাজে বিঘ্ন ঘটলে এবং যকৃতের অকার্যকারিতার ক্ষেত্রে সতর্কতার সাথে ব্যবহার করা উচিত । যে সকল রোগীর কিডনী সমস্যা আছে সে ক্ষেত্রে মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে হবা ।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াঃ- সাধারণত সুসহনীয় । মাথা ব্যাথা, মাথা ঘোরা, ক্লান্তিভাব, গায়ে ফুসকুড়ি, পরিপাকতন্ত্রর জটিলতা দেখা দিতে পারে ।

২. Omepearazol ( ওমিপেরাজল )
বিবরণঃ- সক্রিয় ডিওডেনাল আলসারে স্বল্প মেয়াদী চিকিৎসায় নির্দেশিত । অধিকাংশ ক্ষেত্রে ৪ সপ্তাহে আলসার আরোগ্য হয় । বিনাইন গ্যাস্ট্রিক আলসারঃ প্রচলিত ঔষধে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছেনা এরূপ পেপটিক আলসারেও (যা অস্টেরয়েড প্রদাহ বিরোধী ঔষধে সৃষ্ট হতে পারে) ওমেপ্রাজল নির্দেশিত । গ্যাস্ট্রো-ইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স রোগঃ এন্ডোস্কোপীর মাধ্যমে নির্ণিত রিফ্লাক্স ইসোফেজাইটিস এবং প্রচলিত চিকিৎসায় আরোগ্য হচ্ছে না এরূপ রিফ্লাক্স ইসোফেজাইটিসের স্বল্প মেয়াদী ( ৪ – ৮ সপ্তাহ ) চিকিৎসায়ও অমিপেরাজল নির্দেশিত । । ওমেপ্রাজল পেপটিক আলসার ও রিফ্লাক্স রোগের দীর্ঘ মেয়াদী চিকিৎসায় ব্যবহার করা উচিত নয় ।
যে সকল ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবেঃ- ডিওডেনাল আলসার, গ্যাসট্রিক আলসার, রেজিস্ট্যান্ট আলসার, বুকে জ্বালা, নন-স্টেরয়ডাল প্রদাহরোধী ঔষধ দ্বারা চিকিৎসার ফলে সৃষ্ট জটিলতায়, হ্যালিকোব্যাকটার পাইলোরি সংশিষ্ট পেপটিক আলসার, গ্যাস্ট্রো-ইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স রোগ, জোলিঞ্জার-এলিসন সিন্ড্রোম, অতিরিক্ত এসিড নিঃসরণের লক্ষণসমুহের প্রতিরোধে চিকিৎসা, এসিড জনিত বদহজম এবং অন্যান্য এসিড নিঃসরণ জনিত জটিলতায় স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়েদী চিকিৎসায় ওমি ব্যহৃত হয় ।
মাত্রা ও ব্যাবহারবিধিঃ- ১. সাধারণতঃ ২০ মি.গ্রা. দিনে ১ বার আহারের আধা ঘন্টা পুর্বে সেব্য, তবে রোগের তীব্র অবস্থায় ৪০ মি.গ্রা. দেয়া যেতে পারে । রোগের তীব্রতার উপর নির্ভর করে ৪ – ৮ সপ্তাহ পর্যন্ত সেবন করতে হবে । অথবা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেব্য ।
গর্ভাবস্থায় ও স্তন্য দন কালে ব্যবহারঃ- গর্ভাবস্থায় ওমিপ্রাজলের ব্যবহারে সুনির্দিষ্ট ও পর্যাপ্ত তথ্য নেই । গবেষনায় দেখা গেছে যে, গর্ভাবস্থায় ভ্রুনের প্রতি ওমিপ্রাজলের কোনরূপ ক্ষতির প্রভাব নেই । যদি সম্ভাব্য ঝুকির চেয়ে প্রয়োজনীয়তা বেশী হয় তবে ওমিপ্রাজল গর্ভাবস্থায় ব্যবহার করা যাবে । দুগ্ধদানকারী মায়েদের জন্য গুরুত্ব বিবেচনায় এনে হয় দুগ্ধদান অথবা ঔষধের ব্যবহার সাময়ীক ভাবে বন্ধ করতে হবে ।
সতর্কতা ও প্রতিনির্দেশনাঃ- এর যে কোন একটি উপাদানের প্রতি অতিসংবেদনশীল রোগীদের ক্ষেত্রে প্রতিনির্দেশিত ।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াঃ- সুসহনীয় । খুব কম ক্ষেত্রে বমি বমি ভাব, ডায়রিয়া, পেট ফাঁপা, মাথা ঝিম ঝিম করা, মাথা ব্যাথা, ত্বকে লালচে ভাব দেখা দিতে পারে ।

৩. Paracetamol ( প্যারাসিটামল )
বিবরণঃ- একটল অধিকতর নরাপদ ঔষধ । ইহা কার্যকরী এনালজেসিক ও এন্টিপাইরেটিক হিসাবে গৃহীত হয়ে থাকে । ইহা বেদনানাশক ও জ্বর নিবারণের কার্যকারীতা বহুলাংশে এসপিরিনের মত । যে সকল রোগী এসপিরিন সহ্য করতে পারে না, তাদের জন্য বিকল্প ঔষধ একটল । সাধারণতঃ একটল কোন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে না । দাঁত ব্যথা, শিরপীড়া, স্ত্রীলোকের ঋতুজনিত ব্যথা বা অপর্যাপ্ত ঋতুর জন্য বেদনা, পেশীর যন্ত্রনা এবং স্নায়ুর ব্যথায় অত্যন্ত ফলপ্রসূ । শিশুদের টনসিলের ব্যথা বা ঠান্ডায় শ্বাসনালীতে জীবাণুর আক্রমণে জ্বর ও ব্যথা কমানোর ক্ষেত্রে একটল সিরাপ ভাল কাজ করে । কর্ণ প্রদাহ, ব্রঙ্কাইটিস, ফেরেনজাইটিস বা রোগ প্রতিষেধক টীকার জ্বরে একটল ভাল কাজ করে । তবে ভাইরাস আক্রমণে সৃষ্ট রোগে এন্টিবায়োটিক বা সালফোনোমাইডের সঙ্গে একযোগে ব্যবহার করা যায় ।
যে সকল ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবেঃ- ইনফ্লুয়েঞ্জা, মাথা ব্যথা, কান ব্যথা, স্নায়ুর গোলযোগজনিত ব্যথা, অপেক্ষাকৃত কম তীব্র বাতের ব্যথায় সাময়ীক প্রশান্তির জন্য ও জ্বর নিবারক হিসাবে ব্যবহৃত হয় ।

মাত্রা ও ব্যাবহারবিধিঃ-
সিরাপ:- শিশু ১ বৎসর পর্যন্তঃ আধা চা চামচ করে দিনে ৩/৪ বার ।
১ – ৫ বৎসরঃ ১ – ২ চা চামচ করে দিনে ৩/৪ বার ।
৬ – ১২ বৎসরঃ ১ টি ট্যাবলেট অথবা ২ – ৪ চা চামচ করে দিনে ৩/৪ বার ।
প্রাপ্ত বয়ষ্কঃ ১ – ২ টি ট্যাবলেট অথবা ৪ – ৮ চা চামচ করে দিনে ৩/৪ বার । অথবা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেব্য ।
সতর্কতা ও প্রতিনির্দেশনাঃ- যকৃত ও বৃক্কে সমস্যা রয়েছে এমন রোগীদের ক্ষেত্রে সতর্কতার সাথে ব্যবহার করতে হবে । প্যারাসিটামলের প্রতি সংবেদনশীল রোগীদের দেয়া যাবে না ।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াঃ- পার্শপ্রতিক্রিয়া খুব বিরল, অতিরিক্ত মাত্রা যকৃতে বিষক্রিয়া ঘটাতে পারে । যকৃতে বিষক্রিয়ার প্রাথমিক লক্ষণগুলি হচ্ছে বমিবমি ভাব, বমি এবং শারীরিক অস্বস্থিবোধ ।

৪. Paracetamol & Caffeine ( প্যারাসিটামল এবং ক্যাফেইন )
বিবরণঃ- প্যারাসিটামলের চেয়ে অধিকতর কার্যকর ঔষধ । বেদনানাশক ও জ্বর নিবারণে অধিক কার্যকারী । সাধারণতঃ কোন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে না । দাঁত ব্যথা, শিরপীড়া, স্ত্রীলোকের ঋতুজনিত ব্যথা বা অপর্যাপ্ত ঋতুর জন্য বেদনা, পেশীর যন্ত্রনা এবং স্নায়ুর ব্যথায় অত্যন্ত ফলপ্রসূ । কর্ণ প্রদাহ, ব্রঙ্কাইটিস, ফেরেনজাইটিস বা রোগ প্রতিষেধক টীকার জ্বরে ভাল কাজ করে । তবে ভাইরাস আক্রমণে সৃষ্ট রোগে এন্টিবায়োটিক বা সালফোনোমাইডের সঙ্গে একযোগে ব্যবহার করা যায় ।
যে সকল ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবেঃ- জ্বর নিবারক, মাইগ্রেনসহ মাথা ব্যথা, কান ব্যথা, গলা ব্যথা, স্নায়ুর গোলযোগজনিত ব্যথা, অপেক্ষাকৃত কম ও তীব্র বাতের ব্যথা সহ যেকোন ব্যথায় সাময়ীক প্রশান্তির জন্য এবং স্বর্দিজ্বর, ইনফ্লুয়েঞ্জা নিরাময়ে ব্যবহৃত হয় ।
মাত্রা ও ব্যাবহারবিধিঃ- প্রাপ্ত বয়ষ্ক, বয়োবৃদ্ধ ও ১২ বছরের অধিক বয়সীদের জন্যঃ- ১–২ টি ট্যাবলেট ৪ ঘন্টা পর পর, দিনে ৮টী ট্যাবলেটের বেশী খাওয়া ঠিক নয় । প্রয়োজন অনুসারে ১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রেও নির্দেশিত । অথবা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেব্য ।
সতর্কতা ও প্রতিনির্দেশনাঃ- অ্যালকোহলে আসক্তি, যকৃত ও বৃক্কে সমস্যা রয়েছে এমন রোগীদের ক্ষেত্রে সতর্কতার সাথে ব্যবহার করতে হবে । প্যারাসিটামল, ক্যাফেইন ও এই ট্যাবলেটের অন্যান্য উপাদানের প্রতি সংবেদনশীল রোগীদের দেয়া যাবে না ।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াঃ- পার্শপ্রতিক্রিয়া খুব বিরল । ত্বক্ব লালচে ভাব দেখা দিতে পারে ।

৫. Aciclofenac BP ( অ্যাসিক্লোফেনাক বিপি )
বিবরণঃ- অ্যাসিক্লোফেনাক ফিনাইল এসিটিক এসিড উদ্ভুত, নন-স্টেরয়েড উপাদান যা বাতরোধী এবং জ্বালাবিরোধী ঔষধ যার ব্যথানাশক এবং জ্বরনাশক গুণাগুণও আছে । অ্যাসিক্লোফেনাক সাধারনতঃ সহনীয় ঔষধ । জ্বালাপ্রদানকারী এবং ক্ষয়ে যাওয়া স্থান থেকে সৃষ্ট বাতজ্বর ছাড়াও অন্যান্য ব্যাথায় নির্দেশিত । অ্যাসিক্লোফেনাকের আবরণী গ্যাস্ট্রিক এসিড প্রতিরোধক হওয়াতে ইহা ক্ষুদ্রান্ত্রে অবমুক্তি হয়ে থাকে ।
যে সকল ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবেঃ- বাতজনিত প্রদাহঃ প্রদাহী ও অবক্ষয়ী প্রকৃতির বাত । দীর্ঘস্থায়ী বহুবিধি বাত, এ্যাংকাইলোসিং স্পন্ডাইলাইটিস, স্পন্ডাইলার্থ্রোসেস, অষ্টিও আর্থাটিস, পেরি-আর্টিকুলার বাতজনিত গোলযোগ । অস্ত্রোপচারোত্তর ব্যথা-বেদনা । স্ত্রীরোগ ও ধাত্রীবিষয়কঃ প্রাথমিক বাধক-বেদনা, এপিসিওটমি, এ্যাডনেক্সাইটিস, এন্ডোমেট্রাইমস, প্যারামেট্রাইটিস, স্যালপিনজাইটিস এবং স্তন-প্রদাহ । নাক-কান-গলাঃ অস্ত্রোপচারের পরে প্রদাহ ও ফোলা বিরোধী চিকিৎসায় । অন্যান্যঃ মূত্রনালী ও জননেন্দ্রিয় অস্ত্রোপচারোত্তর ব্যথা ও প্রদাহরোধী চিকিৎসায় । বৃক্ক ও পিত্তনালীর ব্যাথা । জ্বর জনিত অবস্থা এবং সংক্রমণজনিত রোগে আনুসাঙ্গিক ঔষধ হিসেবে দেওয়া যেতে পারে ।
মাত্রা ও ব্যাবহারবিধিঃ- প্রাপ্ত বয়ষ্কঃ খাওয়ার পর ১ টি করে ট্যাবলেট দিনে দুইবার । বৃক্কের দুর্বলতা রোগীদের দিনে একবার । শিশুদের ক্ষেত্রে ব্যবহার নিয়ে কোন তথ্য জানা যায়নি । অথবা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেব্য ।
গর্ভাবস্থায় ও স্তন্য দন কালে ব্যবহারঃ- একান্ত প্রয়োজন না হলে গর্ভাবস্থায় প্রথম তিন মাস সাধারণত অ্যাসিক্লোফেনাক ব্যবহার অনুচিত ।
সতর্কতা ও প্রতিনির্দেশনাঃ- যাদের পেপটিক আলসার কিংবা অন্ত্রে রক্তক্ষরণের লক্ষণ আছে, মাঝারী থেকে তীব্র কিডনী ও যকৃতের সমস্যা আছে তাদের ক্ষেত্রে এবং গর্ভাবস্থায় এটা ব্যবহার করা যাবে না । অ্যাসিক্লোফেনাক ব্যবহারে যাদের অ্যাজমা বেড়ে যাওয়া কিংবা তীব্র রাইনাইটিস বা আর্টিকেরিয়ার পূর্ব ইতিহাস আছে তাদের ক্ষেত্রে এটা দেওয়া যাবে না ।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াঃ- বদহজম, পেটব্যাথা, বমি বমি ভাব, মাথাব্যাথা, ডায়রিয়া এবং কখনও কখনও মাথা ঘোরা দেখা দিতে পারে ।

৬. Cetirizine ( সেটিরিজিন )
বিবরণঃ- সেটিরিজিন একটি শক্তিশালী এইচ ১ রিসেপ্টর এন্টাগনিষ্ট যার কোন গুরুত্বপুর্ণ এন্টিকলিনার্জিক এবং এন্টিসেরটনিক প্রতিক্রিয়া নেই । ব্লাড-ব্রেইন বেরিয়ার অতিক্রম করে মস্তিষ্কে প্রবেশ করতে পারে না বিধায় সাধারণ কার্যকরী মাত্রায় এটি তন্দ্রালুতা সৃষ্টি করে না বা রোগীর দৈনন্দিন স্বাভাবিক কাজকর্মে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে না । এটি হিস্টামিন জনিত এলার্জির প্রারম্ভিক পর্যায়কে প্রতিরোধ করে এবং এলার্জির প্রলম্বিত পর্যায়ের জন্য দায়ী প্রদাহ সৃষ্টিকারী কোষগুলোর অস্বাভাবিক চলাচল ও রাসায়নিক পদার্থগুলোর নিঃসরণ কমিয়ে দেয় । এছাড়াও এ্যাজমা রোগীর শ্বাসের সঙ্গে প্রবেশকৃত হিস্টামিন দ্বারা সৃষ্ট শ্বাসনালীর সংকোচনকে দূর করে ।
যে সকল ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবেঃ- এলার্জিক রাইনিটিস (ঘন ঘন হাঁচি, নাক দিয়ে পানি ঝরা, নাক বন্ধ হওয়া, সাইনোসাইটিস), দীর্ঘস্থায়ী এলার্জিজনিত নাসারন্ধ্রের প্রদাহ সহ দীর্ঘস্থায়ী এ্যাজমা, এলার্জিজনিত এ্যাজমা ও জ্বর, অ্যাটোপিক এ্যাজমায় আক্রান্ত শিশু, সোরিয়াসিস (বংশানুক্রমিক চর্মরোগ যা শক্ত লাল লাল গুটিকা ও রূপার নযায় আবরণ দ্বারা), আর্টিকারিয়া (চামাড়ায় এলার্জিজনিত চাকা), প্রুরাইটিস (এলার্জিজনিত তীব্র চুলকানি), বংশগত এ্যাজমা ।
মাত্রা ও ব্যাবহারবিধিঃ- ৬ বছরের উর্দ্ধেঃ- ১টি ট্যাবলেট অথবা ১–২ চা চামচ দিনে একবার বা বিভক্তি মাত্রায় । ২–৬ বছরঃ- অর্ধেক ট্যাবলেট বা আধা চা-চামচ দিনে একবার বা বিভক্তি মাত্রায় । ২ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে নির্দেশিত নয় । অথবা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেব্য ।
গর্ভাবস্থায় ও স্তন্য দন কালে ব্যবহারঃ- গর্ভাবস্থায় সুনির্দিষ্টভাবে প্রয়োজনীয়তা বেশী হলে সতর্কতার সাথে ব্যবহার করা উচিত ।
সতর্কতা ও প্রতিনির্দেশনাঃ- শিশু, স্তন্যদানকারী ও গর্ভবতীদের ক্ষেত্রে, গাড়ী এবং যন্ত্রপাতি চালানোর সময় সতর্কতার সহিত ব্যবহার করতে হবে । ইহার জাতক হাইড্রোক্সিজিন এর প্রতি সংবেদনশীল রোগীদের দেয়া যাবে না ।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াঃ- মাথা ব্যথা, মুখ শুকিয়ে যাওয়া, ঝিমুনি, অস্থিরতা, পাকস্থলীর গন্ডগোল, ত্বক্ব লালচে ভাব ইত্যাদি দেখা দিতে পারে ।

৭. Clonazepam ( ক্লোনাজেপাম )
বিবরণঃ- রাসায়নিকভাবে ক্লোনাজিপাম একটি বেনজোডায়াজিপিন জাতক । যা কিছু ফার্মাকোলজিক কার্যকারিতা প্রদর্শন করে, যা বেনজোডায়াজিপিন গ্রুপের ঔষধের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য । মানবদেহে অ্যাবসেন্স সিজার, পেটিট মযাল – এর স্পাইক ও ওয়েভ ডিসচার্জ প্রসমন করতে এবং মাইনর মোট সিজার– এর ফ্রিকোয়েন্সি, অ্যামপ্লিচুড, সময়কাল ও ডিসচার্জ প্রসারণ কমাতে সক্ষম ।
যে সকল ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবেঃ- এনজাইটি ও পেনিক ডিসঅর্ডার, এগোরাফোবিয়া সহ অথবা ব্যতিত, মৃগীরোগ বা অন্যান্য খিঁচুনিরোগ, মায়োক্লোনিক এবং অ্যাকাইনেটিক সিজার সমুহ এবং পেটিট ম্যাল ভেরিয়েন্ট (লেনক্স-গ্যাসটঊট সিনড্রোম) এর একক বা সংযুক্ত চিকিৎসায় ।
মাত্রা ও ব্যাবহারবিধিঃ- ক্লোনাজিপাম স্ট্যান্ডার্ড মাত্রা রোগীর ক্লিনিক্যাল প্রতিক্রিয়া এবং ক্লোনাজিপামের প্রতি সহনশীলতা অনুযায়ী নির্ধারণ করতে হবে । সাধারণত ক্লোনাজিপাম নতুন রোগীদের ক্ষেত্রে কম মাত্রায় শুরু করা হয়ে থাকে ।
প্রাপ্ত বয়ষ্কঃ প্রতিদিন রাতে ১ মি.গ্রা. ( বয়োবৃদ্ধদের ০.৫ মি.গ্রা. ) করে ৪ রাতের জন্য, যা রেস্পন্স অনুযায়ী ২ – ৪ সপ্তাহের মধ্যে ৪ – ৮ মি.গ্রা.–তে ধীরে ধীরে বৃদ্ধি করা যেতে পারে ( প্রয়োজন অনুযায়ী ৩ – ৪ বিভক্ত মাত্রায় দেয়া যেতে পারে ।
শিশুঃ ১ বছর পর্যন্ত- প্রাথমিকভাবে প্রতিদিন রাতে ০.২৫ মি.গ্রা. যা প্রয়োজন ও সহনীয়তার উপর ভিত্তি করে ০.৫–১ মি.গ্রা. পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে । ১–৫ বছর পর্যন্ত- প্রাথমিকভাবে প্রতিদিন রাতে ০.২৫ মি.গ্রা. যা প্রয়োজন ও সহনীয়তার উপর ভিত্তি করে ১–৩ মি.গ্রা. পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে । ৫–১২ বছর পর্যন্ত- প্রাথমিকভাবে প্রতিদিন রাতে ০.৫ মি.গ্রা. যা প্রয়োজন ও সহনীয়তার উপর ভিত্তি করে ৩–৬ মি.গ্রা. পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে । ৬ মাসের নীচের শিশুদের, বিশেষত অপূর্ণাঙ্গ শিশুর ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে না । অথবা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেব্য ।
সতর্কতা ও প্রতিনির্দেশনাঃ- যখন ঔষধ বন্ধ করার প্রয়োজন পড়বে, তখন ধীরে ধীরে ঔষধের মাত্রা কমিয়ে আনা অত্যাবশ্যক । বয়োবৃদ্ধ, দুর্বল ও ক্রনিক শ্বাসতন্ত্রের রোগীদের ক্ষেত্রে সাবধানতার সাথে ব্যবহার করা উচিত, এ সকল রোগীদের ক্ষেত্রে ব্যবহার না করাই উত্তম । বেনজোডায়াজিপিনের প্রতি অতিসংবেদনশীলতার ক্ষেত্রে এবং যাদের যকৃত রোগের ক্লিনিক্যল বা বায়োক্যামিক্যাল প্রমান রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা উচিত নয় ।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াঃ- সাধারণত ঘুমঘুমভাব, অবসাদ্গ্রস্থতা, মাথা ঝিঝিমভাব, মাথা হালকা হওয়া, মাথা ঘোরা, পেশীর হাইপোটোনিয়া, সমন্বয় করার ক্ষেত্রে অসুবিধা, বাচ্চাদের অতিরিক্ত লালা নিঃসৃত হওয়া, প্যারাডক্সিক্যল অ্যাগ্রেসন, ইরিটেবিলিটি এবং মানসিক পরিবর্তন দেখা দিতে পারে ।
গর্ভাবস্থায় ও স্তন্য দন কালে ব্যবহারঃ- গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে নির্দেশিত নয় এবং স্তন্যদানকারী মায়েদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে না ।

৮. Domperidone ( ডমপেরিডন )
নির্দেশনাঃ- যে কোন কারনে তাৎক্ষনিক বমি বমি ভাব ও বমির প্রতিরোধে এবং লক্ষণাদির উপশমে বিশেষত – সাইটোটনিক্স থেরাপী, রেডিও থেরাপী, পারকিনসোনিয়ান রোগীদের লিভোডোপা ও ব্রোমোক্রিপটিন চিকিৎসায় উদ্ভুত বমি বমি ভাব ও বমি, মাইগ্রেনে সৃষ্ট বমি বমি ভাব । ফাংশনাল অজীর্ণ রোগ ।
মাত্রা ও ব্যাবহারবিধিঃ- প্রাপ্তবয়স্কঃ ১০–২০ মি.গ্রা. / ১–২ টি ট্যাবলেট । শিশুঃ ০.২–০.৪ মি.গ্রা. / ২–৪ মি.লি. । সর্বোচ্চ চিকিৎসাকাল ১২ সপ্তাহ । ডমপেরিডন খাদ্য গ্রহণের ১৫–৩০ মিনিট পূর্বে শরীরের ওজন অনুসারে প্রতি ৪–৮ ঘন্টা অন্তর সেব্য । অথবা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেব্য ।
সতর্কতা ও প্রতিনির্দেশনাঃ- বাচ্চদের ক্ষেত্রে ডমপেরিডন সতর্কতার সাথে ব্যবহার করা উচিত । ডমপেরিডনের প্রতি অতিসংবেদনশীল রোগী ও নবজাত শিশুদের ক্ষেত্রে ডমপেরিডন ব্যবহার নিষিদ্ধ ।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াঃ- ডমপেরিডন রক্তে প্রোল্যাকটিনের মাত্রা বৃদ্ধি করে (১.৩%) । মুখের শুষ্কতা, পিপাসা, মাথা ব্যথা, নার্ভাস ভাব, পাতলা পায়খানা, ত্বকে লালচে ভাব ও চুলকানি হতে পারে ।
অন্যান্য ঔষধের সাথে ক্রিয়াঃ- ব্রোমোক্রিপটিনের প্রোল্যাকটিন পরিপাকতান্ত্রিক কার্যকারিতায় এন্টিমাসক্যারিনিক্স ও ওপয়েড এনালজেসিকের মাধ্যমে ডমপেরিডনের কার্যক্ষমতা ব্যহত হতে পারে ।
গর্ভাবস্থায় ও স্তন্য দন কালে ব্যবহারঃ- ডমপেরিডনের ব্যবহার জনিত নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত নয় বলে গর্ভবস্থায় এটা অনুমোদিত নয় । মাতৃদুগ্ধে এটা খুব অল্প পরিমান নিঃসৃত হওয়ায় নবজাতকের ক্ষতির সম্ভবনা থাকেনা ।

৯. Albendazole ( এ্যালবেনডাজল )
বিবরণঃ- এ্যালবেনডাজল একটি বেনজিমিডাজোল জাতীয় শক্তিশালী কৃমিনাশক ঔষধ । এটা অধিকাংশ পূর্ণবয়ষ্ক এবং লারভা জাতীয় নোমাটোড ও সিসটোড – এর বিরুদ্ধে কার্যকরী । এ্যালবেনডাজল – এর ভারমিসাইডাল, ওভিসাইডাল এবং লারভিসাইডাল কার্যকারিতা আছে । এই ঔষধ সংবেদনশীল কৃমির গ্লুকোজ গ্রহণে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে কৃমির পুষ্টিমাত্রা জীবিত থাকার জন্য অপর্যাপ্ত মাত্রায় নিয়ে আসে । এর ফলে কৃমি নিশ্চল হয়ে যায় এবং মৃত্যুবরণ করে । এ্যালবেনডাজল পরিপাকনালী হতে অল্প পরিমাণে বিশোষিত হয় । কিন্তু দ্রুত বিপাক হয় ।
নির্দেশনাঃ- হুকওর্য়াম (এনকাইলোষ্টোমা, নেকাটর), গোলকৃমি (এসকারিস), সূতাকৃমি (এন্টেরোবিয়াস), হুইপওয়ার্ম (ট্রাইচুরিস), ফিতাকৃমি, ওপিমথকি স্হুলকোষ কৃমি বিশেষ (হাইডাটিড) কৃমি দ্বারা আক্রান্ত হলে এ্যালবেনডাজল নির্দেশিত ।
মাত্রা ও ব্যাবহারবিধিঃ- ১ – ২ বছর বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রেঃ অর্ধেক / ২০০ মি.গ্রা. ট্যাবলেট । বয়স্ক ও ২ বছরের শিশু বা তার চেয়ে বেশী বয়সীদের ক্ষেত্রেঃ ৪০০ মি.গ্রা. ১ টি ট্যাবলেট । চুষে খাওয়ার ট্যাবলেট, একক মাত্রায় সেব্য । অথবা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেব্য ।
সতর্কতা ও প্রতিনির্দেশনাঃ- চিকিৎসার পূর্বে রক্ত কনিকার পরিমান এবং যকৃতের কার্যকারিতার দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে ।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াঃ- সাধারণতঃ পরিপাকতন্ত্রের গোলযোগ, মাথাব্যথা, মাথাঘোরা, যকৃতের এনজাইমের পরিবর্তন, রক্তস্ফোটক, শ্বেতকনিকা স্বল্পতা, পেশী সংকোচন, এলার্জি, মস্তিষ্ক ঝিল্লীর প্রদাহ বা প্রদাহ ছাড়াই শুষ্কাবস্থা ।
শিশু, গর্ভাবস্থায় ও স্তন্য দন কালে ব্যবহারঃ- এ্যালবেনডাজল নবজাতক শিশু ও গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে নির্দেশিত নয় এবং স্তন্যদানকারী মায়েদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে না ।

১০. Amlodipine & Atenolol (এ্যামলোডিপিন ও এটেনোলোল )
বিবরণঃ- ইহা একটি এ্যামলোডিপিন ও এটেনোলোল এর ফিক্সড ডোজ কম্বিনেশন । এ্যামলোডিপিন একটি ডাইহাইড্রোপাইরিডিন ক্যালসিয়াম চ্যানেল এ্যান্টাগোনিস্ট যা রক্তনালীর পেশী ও হৃদপেশীর মধ্যে ক্যালসিয়াম আয়ন ঢুকতে বাধা দেয় । ইহার হৃদপেশীর তুলনায় রক্তনালীর পেশীর উপর বেশী প্রভাব রয়েছে । এ্যামলোডিপিন একটি পেরিফেরাল ভেসোডাইলেটর যা সরাসরি কাজ করে পেরিফেরাল ভাসকুলার রেজিস্ট্যান্স ও রক্তচাপ কমায় । এ্যামলোডিপিন পরবর্তী লোড কমানোর মাধ্যমে টোন, করোনারি ভেসোরিঅ্যাক্টিভিটি এবং কার্ডিয়াক ডিমান্ড কমায় ।
এটেনোলল একটি কার্ডিওসিলেক্টিভ বিটা ব্লকার । এর কার্ডিওসিলেক্টিভিটি মাত্রা সম্পর্কিত । ইহা কার্ডিয়াক আউটপুট, প্লাজমা রেনিন ও সিএনএস-এর সিমপ্যাথেটিক আউটফ্লো কমানোর মাধ্যমে রক্তচাপ কমায় । এটেনোলল ঋণাত্মক ইনোট্রপিক এবং ঋণাত্মক ক্রোনোট্রপিক ক্রিয়ার মাধ্যমে মায়োকার্ডিয়াম এর অক্সিজেনের চাহিদা কমায় ।
নির্দেশনাঃ- যে সকল রোগীদের এসেনশিয়াল হাইপারটেনশন আছে, এ্যানজিনা পেকটোরিস ও হাইপারটেনশন উভয়ই বিদ্যমান, পোস্ট এমআই-এর রোগীদের জন্য নির্দেশিত । নাইট্রেট দ্বারা চিকিৎসায় ব্যর্থ এমন রিফ্রাকটরী এনজিনার রোগীদের জন্য নির্দেশিত ।
মাত্রা ও ব্যাবহারবিধিঃ- প্রতিদিন নির্দেশিত মাত্রা ১ টি ট্যাবলেট, প্রয়োজন হলে মাত্রা বাড়িয়ে দৈনিক ২ টি ট্যাবলেট করা যেতে পারে । প্রতি রোগীর ক্ষেত্রেই সঠিক মাত্রা সমন্বয় করা উচিত । অথবা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেব্য ।
সতর্কতা ও প্রতিনির্দেশনাঃ- শ্বসনতন্ত্রের বাধার ক্ষেত্রে, মারাত্মক যকৃতের অসুস্থতায়, যাদের ক্রিয়েটিনিন ক্লিয়ারেন্স ৩০ মি.লি. / মি. এর কম তাদের ক্ষেত্রে এই কম্বিনেশন বিশেষ সতর্কতার সাথে ব্যবহার করা উচিত । এই ট্যাবলেটের যে কোন উপাদানের প্রতি অতিসংবেদনশীলতা, সাইনাস ব্রাডিকার্ডিয়া, দ্বিতীয় ও উচ্চমাত্রার হার্টব্লকের ক্ষেত্রে, কার্ডিওজেনিক শক, হাইপোটেনশন, কনজেসটিভ হার্ট ফেইলুর, বাম নিলয়ের অসমকার্যকারিতায় ব্যবহার করা যাবে না ।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াঃ- এই কম্বিনেশন সু-সহনীয় । ক্লান্তি, মাথা ব্যথা, ইডিমা, বমি বমি ভাব, ঝিমুনি, উদ্বিগ্নতা ও বিষন্নতা দেখা দিতে পারে ।
গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদনকালে ব্যবহারঃ- কেবলমাত্র গর্ভাবস্থায় বাচ্চার ঝুকির তুলনায় সুবিধার পরিমান বেশী হলে এই কম্বিনেশন ব্যবহার করা যেতে পারে ।

১১. Metronidazole ( মেট্রোনিডাজল )
বিবরণঃ- মেট্রোনিডাজল এটি নাইট্রোইমিডাজল উপাদান । ট্রাইকোমোনাস ভেজাইনালিস, এনটামোইবা হিসটোলাইটিকা, জিয়ারডিয়া, ল্যাম্বলিয়া, অবায়ুজীবী ব্যকটেরিয়ার বিরুদ্ধে অত্যন্ত কার্যকর । রোগীর শরীরে মেট্রোনিডাজল খুব ভালভাবেই সহনীয়, এমনকি গর্ভাবস্থায়ও এটি নিরাপদ ।
নির্দেশনাঃ- ব্যাকটেরিমিয়া, পেরিটোনাইটিস, ব্রেইন অ্যাবসেস, অস্থিনাশ কারক নিউমোনিয়া, অস্টিওমায়োলাইটিস, পারপিউরাল সেপসিস, পেলভিক অ্যাবসেস, পেলভিক সেলুলাইটিস এবং অপারেশন পরবর্তী আঘাত জনিত সংক্রমণের চিকিৎসা, ট্রাইকোমোনিয়াসিস, সকল ধরণের অ্যামিবিয়াসিস, জিয়ারডিয়াসিস, একিউট অ্যালসারেটিভ জিনজিভাইটিস, অবায়ুজীবী ব্যাকটেরিয়া জনিত পায়ের আলসার এবং ত্বক ও শৈষ্মিক ঝিলীর ক্ষত, হেলিকোব্যাকটার পাইলোরির বিরুদ্ধে পরবর্তিত ট্রিপল থেরাপিতে এ্যামোক্সিসিলিন এবং রেনিটিডিন এর সাথে ইহা ব্যবহারযোগ্য ।
মাত্রা ও ব্যাবহারবিধিঃ- ২০০ মি.গ্রা. ও ৪০০ মি.গ্রা. দিনে ৩ বার । অথবা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেব্য ।
সতর্কতা ও প্রতিনির্দেশনাঃ- শিশু, বৃদ্ধ এবং স্নায়ুবিক রোগে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে সতর্কতার সাথে ব্যবহার করা উচিত ।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াঃ- নির্দেশিত মাত্রায় মেট্রোনিডাজল সেবনে খুব কম সময়ই মারাত্বক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায় ।
গর্ভাবস্থায় ও স্তন্য দন কালে ব্যবহারঃ- গর্ভবস্থায় মেট্রোনিডাজল ব্যবহারে নিরাপত্তার যথেষ্ট তথ্য নেই।

১২. O.R.S ( খাবার স্যালাইন )
বিবরণঃ- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফর্মুলা অনুযায়ী তৈরী খাবার স্যালাইন যা বয়ষ্ক ও শিশুদের ডায়রিয়া এবং কলেরা জনিত পানিশূণ্যতার হাত থেকে রক্ষা করবে । বিভিন্ন কারণ জনিত ডায়রিয়ায় অত্যন্ত কার্যকরী স্বল্পমূল্যের চিকিৎসা । খাবার স্যালাইন সকল ডায়রিয়া রোগীদের জন্য গ্রহণযোগ্য : এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নাই বললেই চলে । O.R.S- এ আছে সঠিক মাত্রায় গ্লুকোজ যা পুষ্টিহীন রোগীদের প্রয়োজনীয় শক্তি যোগাবে ও দেহের লবন জাতীয় পদার্থের পরিমানকে স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরিয়ে আনে ।
নির্দেশনাঃ- ডায়রিয়া বা কলেরাজনিত ডিহাইড্রেশন বা দেহের জলীয় তরলের অভাবে নির্দেশিত ।
মাত্রা ও ব্যাবহারবিধিঃ- ডায়রিয়া শুরুর পর যত দ্রুত সম্ভব খাওয়া শুরু করা উচিত এবং পাতলা পায়খানা বন্ধ না হয় সে পর্যন্ত খাওয়া চালিয়ে যেতে হবে ।
সতর্কতা ও প্রতিনির্দেশনাঃ- গরম করা যাবে না, ২৪ ঘন্টার মধ্যে খাওয়া না হলে সেটি ফেলে দিতে হবে ।

১৩. Calcium Carbonate ( ক্যালসিয়াম কার্বনেট )
নির্দেশনাঃ- নিম্ন লিখিত ক্ষেত্রসমূহে ক্যালসিয়াম কার্বনেট নির্দেশিতঃ
ক্যালসিয়ামের অভাবজনিত জটিলতায়ঃ অস্টিওম্যালেসিয়া, রিকেটস, উর্ধেব পাকান্ত্রিক নালীতে শোষণে জটিলতা ইত্যাদি । ক্যালসিয়ামের পরিপূরক হিসাবেঃ শৈশবে, বৃদ্ধ বয়সে, গর্ভাবস্থায় এবং স্তন্যদানিকালে । ফসফেট যুক্তকারী (বাইন্ডার) হিসাবেঃ হাইপারফসফেটেমিয়া, দীর্ঘস্থায়ী কিডনী জটিলতায় কিডনীর অস্টিওডিস্ট্রফি প্রতিরোধে অন্ত হতে ফসফেটের শোষণ হ্রাস করার জন্য । অস্টিওপরোসিসঃ অস্টিওপরোসিসে হাড়ে খনিজ লবণের বিদূরণ বন্ধ বা এর গতি হ্রাস করার জন্য । এন্টাসিড হিসাবেঃ বিশেষ করে মযাগনেসিয়াম যুক্ত এন্টাসিডের সাথে ইহা নির্দেশিত ।
যে সমস্ত রোগীদের ভোজন প্রণালী অপর্যাপ্ত, তাদের ক্যালসিয়াম ঘাটতি প্রতিরোধ বা ঘাটতিজনিত চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয় ।
মাত্রা ও ব্যাবহারবিধিঃ- প্রাপ্ত বয়ষ্কঃ ১ – ২ টি ট্যাবলেট দিনে ১ বার । অথবা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেব্য ।
সতর্কতা ও প্রতিনির্দেশনাঃ- হাইপারক্যালসেমিয়া এবং হাইপারপ্যারাথাইরয়ডিজম, হাইপারক্যালসিউরিয়া এবং নেফ্রোলি ইথিয়াসিস, জলিঞ্জার ইলিসন সিনড্রোম ইত্যাদি ক্ষেত্রে ক্যালসিয়াম কার্বনেট প্রতিনির্দেশিত । কিডনী জটিলতায় রোগীকে ক্যালসিয়াম কার্বনেট সাবধানে দেয়া উচিৎ ।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াঃ- বমিবমি ভাব, পেট ব্যথা, কোষ্ঠকাঠিন্য, পেটফাঁপা, উদগার বা ঢেকুর ইত্যাদি দেখা দিতে পারে ।

১৪. Vitamin B-Complex ( ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স )
বিবরণঃ- ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য অতি প্রয়োজনীয় ভিটামিনসমূহের সংমিশ্রণ বা রাসায়নিক উপায়ে তৈরী । শরীরের বিপাক প্রক্রিয়ার নিয়ন্ত্রক হিসাবে এবং শক্তি যোগানোর ক্ষেত্রে এর কাজ অপরিসীম । ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য অত্যাবশ্যকীয় এবং আন্ত্রিক, স্নায়ুগত বা হরমোন সমুহ নিঃসরণের যথোপযুক্ত স্বাভাবিকতার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় । দির্ঘদিন এন্টিবায়োটিক ব্যবহারের পর অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটিরিয়া ক্ষতিগ্রস্থ হয় । উক্ত ব্যাকটিরিয়া বি-ভিটামিন উৎপাদন করে । এন্টিবায়োটিক দিয়ে চিকিৎসার পর তাই এর ব্যবহার অপরিহার্য ।
নির্দেশনাঃ- অপুষ্টিজনিত রক্তস্বল্পতা, গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান কাল, অস্ত্রোপচার পূর্ব ও পরবর্তী অবস্থা, এন্টিবায়োটিক দিয়ে চিকিৎসাকাল, দীর্ঘায়িত কোষ্ঠকাঠিন্য, ঠোঁটের কোণায় ঘা, লিভারের রোগ, শৈশবের সাধারণ বৃদ্ধি ও সুস্বাস্থ্য রক্ষায় ব্যবহার্য ।
মাত্রা ও ব্যাবহারবিধিঃ- প্রাপ্তবয়স্কঃ ১ – ২ চা-চামচ / ১ টি ট্যাবলেট / ক্যাপসুল দিনে ৩ বার । শিশু ২ বৎসরের উর্ধেঃ ১ চা-চামচ সিরাপ দিনে ৩ বার । শিশু ২ বৎসরের নিচেঃ ১ চা চামচ সিরাপ দিনে ১ বার সেব্য । অথবা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেব্য ।

১৫. Ferrous Fumerate ( ফেরাস ফিউমারেট )
বিবরণঃ- অন্যান্য আয়রণ সল্টের মত ফেরাস ফিউমারেট লৌহাভাবজনিত রক্তস্বল্পতার চিকিৎসা করা হয় ।
নির্দেশনাঃ- ঋতুকালীন অধিক স্রাব, গর্ভকালীন ও স্তন্যদানকালীন সময়, সন্তান প্রসবকালীন রক্তস্রাব, অপুষ্টি, খাদ্যে ভিটামিনের অভাব, অতিরিক্ত পরিশ্রম, কৃমির আক্রমণ, যক্ষা, বহু দিনের পুরানো ক্ষত থেকে অনবরত রক্ত ঝরা ইত্যাদি ক্ষেত্রে নির্দেশিত ।
মাত্রা ও ব্যাবহারবিধিঃ- প্রাপ্ত বয়ষ্কঃ ১ টি ট্যাবলেট দিনে ২ – ৩ বার । অথবা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেব্য ।
সতর্কতা ও প্রতিনির্দেশনাঃ- আয়রন সল্ট ও টেট্রাসাইক্লিন, মাগালোব্লাস্টিক এনিমিয়া, যে সমস্ত রোগীর ক্ষেত্রে বারবার ব্লাড ট্রান্সফিউশন প্রয়োজন অথবা আয়রনের অভাবজনিত এনিমিয়া নয় এমন ক্ষেত্রে প্রতিনির্দেশিত ।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াঃ- বমিবমি ভাব, পরিপাকতন্ত্রের অস্বাচ্ছন্দ্য, পেট ব্যথা, কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়া ইত্যাদি দেখা দিতে পারে ।

হোমিওপ্যাথিক সহ অন্যান্য ঔষধ ( দ্বিতীয় পর্যায়ের ঔষধ, সদস্যভূক্ত পরিবারের মাঝে ২০ – ২৫% ছাড়ে প্রদানের জন্য )

1. Podophyllum / Adad ( পডোফাইলাম / এ্যাডড )
2. Hydrocotyle / Dyspro ( হাইড্রোকোটাইল / ডিসপ্রো )
3. Jonesia Asoca / Femolaid ( জোনেসিয়া অশোকা / ফিমোলেইড )
4. Leucomax ( লিউকোম্যাক্স )
5. Nutramax ( নিউট্রাম্যাক্স )
6. Gastrobin / Aciled ( গ্যাসট্রোবিন / এ্যাসিলেড )
7. Justicia ( জাষ্টিসিয়া )
8. Mentomax ( মেন্টোম্যাক্স )
9. Adhomax ( এ্যাঢোম্যাক্স )
10. Azomin / Antico (এ্যাজোমিন / এ্যান্টিকো )
11. Tromax / Tonslaid ( ট্রোম্যাক্স / টন্সলেইড )
12. Kali Bichrom 12 / Sinolaid ( ক্যালি বাইক্রোম ১২ / সিনোলেইড )
13. Dibomax / Dianil ( ডাইবোম্যাক্স / ডায়ানিল )
14. Rauwolfia / Rawol ( রাওলফিয়া / রাউল )
15. Arjuna ( অর্জুনা )
16. China Off ( চায়না )
17. Aesculamar / Demorrhoid ( এসকুলামার / ডেমোরেইড )
18. Alfa Alfa Plus / Alfa ( আলফা আলফা প্লাস / আলফা )
19. Chelidonium Maj / Hetro ( চেলিডনিয়াম মেজ / হেটরো )
20. Kalmegh ( কালমেঘ )
21. Amloki ( আমলকি )
22. Neumatox / Rhemax ( নিউম্যাটক্স / রিম্যাক্স )
23. Mila Mona ( মিলা মোনা )
24. Fytolos ( ফাইটোলস )
25. Avena Sativa ( এভেনা স্যাটাইভা )
26. Ginseng ( জিনসেং )
27. Mullen Oil / Mullein ( মুলেন অয়েল / মুলেন )
28. Arnica Montana ( আর্নিকা মন্টেনা ) Ointment ( মলম )
29. Calendula ( ক্যালেন্ডোলা ) Ointment ( মলম )
30. Cantharis ( ক্যান্থারিস ) Ointment ( মলম )
31. Graphites ( গ্রাফাইটিস ) Ointment ( মলম )
32. Rhus Tox ( রাসটক্স ) Ointment ( মলম )

১. Podophyllum / Adad ( পডোফাইলাম / এ্যাডড ):-
নতুন এবং পুরাতন পেটের পীড়া, ডায়রিয়া এবং আমাশয়ে অত্যন্ত কার্যকরি । শিশুদের পেটের পীড়া বিশেষ করে গ্রীষ্মকালীন ও দাত উঠার সময় এবং বড়দের ক্ষেত্রে গ্রীষ্মকালীন প্রচুর অম্লস্বাদযুক্ত ফল ভক্ষ্ণ ও খাদ্যে বিষক্রিয়ার ফলে সৃষ্ট উদরাময়, সবুজাভ দুর্গন্ধ বিশিষ্ট পানির মত তরল মল যা তীব্র বেগে প্রচুর বায়ু সহ নির্গমন হয়, পেটে মোচড়ানো ব্যথা ও গুর গুর শব্দ, প্রচুর অবসাদগ্রস্থতা, বমি এবং উদগার ভাব, প্রচুর পানি পিপাসা ইত্যাদি লক্ষণে কার্যকর ।
সেবনবিধিঃ- প্রাপ্ত বয়স্কঃ ১ চা-চামচ, অপ্রাপ্ত বয়স্কঃ আধা চা-চামচ পানিতে মিশিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী সেব্য ।

২. Hydrocotyle / Dyspro ( হাইড্রোকোটাইল / ডিসপ্রো ):-
আমাশয় ও ডায়রিয়া সহ যাবতীয় পেটের পীড়ায় ইহা অত্যন্ত কার্যকর । মুখমন্ডল, নাক ও কর্ণের উপর বিভিন্ন চর্মরোগ যেমনঃ কুষ্ঠ, আলসার, একজিমা, চুলকানি প্রভৃতিতে ফলপ্রদ । স্নায়ু ও স্মৃতিশক্তির বৈকল্য, জরায়ু ও ডিম্বাশয়ের প্রদাহ, ছানি সহ অন্যান্য চোখের রোগে এটি ব্যবহৃত হয় ।
সেবনবিধিঃ- প্রাপ্ত বয়স্কঃ ১ চা-চামচ, শিশুদেরঃ বয়স্কঃ আধা চা-চামচ পানিতে মিশিয়ে ৩ বার আহারের পর সেব্য ।

৩. Jonesia Asoca / Femolaid ( জোনেসিয়া অশোকা / ফিমোলেইড ):-
প্রধানতঃ ইহা ঋতু গোলযোগ ও জরায়ুর বিভিন্ন লক্ষণের উপর কাজ করে । নিয়মিত ঋতুস্রাব না হওয়া, অতিরিক্ত বা কম স্রাব ভাঙ্গা, ঋতু শূল / ব্যথা এবং জরায়ুর দুর্বলতা, জরায়ু ভারী বোধ হওয়া ইত্যাদি লক্ষণে অত্যন্ত কার্যকর ।
সেবনবিধিঃ- প্রাপ্ত বয়স্কঃ ১ – ২ চা-চামচ আধা চা-চামচ পানিতে মিশিয়ে ৩ বার আহারের পুর্বে সেব্য ।

৪. Leucomax ( লিউকোম্যাক্স ):-
সকল প্রকার শ্বেত প্রদর ( লিউকোরিয়া ), মুখের ক্ষত, বমনোদ্বেগ প্রভৃতি লক্ষণে অত্যন্ত কার্যকর । লিউকোরিয়া বিশেষ করে মহিলাদের সাদা স্রাব কিংবা ডিমের লালার মত শ্বত, গরম চটচটে স্রাব প্রচুর পরিমানে নির্গত হওয়া । অনিয়মিত ঋতুস্রাব সহ বেদনা, যোনি পথে চুলকানি ও প্রদাহ সহ বোরাক্সের অন্যান্য লক্ষণে কার্যকর । সেবনবিধিঃ- প্রাপ্ত বয়স্কঃ ২ চা-চামচ ৩ বার আহারের পর সেব্য ।

৫. Nutramax ( নিউট্রাম্যাক্স ):-
অম্লাধিক্য ও বুক জ্বালায় কার্যকর । (১) পরিপাক শক্তি কমে যাওয়া, পেটে অত্যাধিক বায়ু সঞ্চয়, মুখে দুর্গন্ধ, রক্ত মিশ্রিত মলত্যাগ, মলত্যাগের পর পৃষ্ঠদেশে ভীষণ ব্যথা ইত্যাদি । (২) পাকস্থলীতে বেদনা ; গ্যাষ্ট্রোলজিয়া, বমিভাব, ঢেকুর, টক বমি, বুক ও পাকস্থলিতে জ্বালা ইত্যাদি ।
সেবনবিধিঃ- প্রাপ্ত বয়স্কঃ ২ ট্যাবলেট ও অপ্রাপ্ত বয়স্কঃ ১ ট্যাবলেট ৩/৪ বার, চুষে খাওয়ার জন্য ।

৬. Gastrobin / Aciled ( গ্যাসট্রোবিন / এ্যাসিলেড ):-
পাকস্থলীতে অম্লমাত্রা নিয়ন্ত্রণে এবং তীব্র অম্লত্ব জনিত বিভিন্ন উপসর্গ যেমন – পাকস্থলীতে প্রদাহ, বুকজ্বলা, পেটফাঁপা, টক ঢেকুর, বমি বমি ভাব, জ্বালাকর বেদনাসহ কোষ্ঠকাঠিন্য, পরিপাকে দুর্বলতা, ঝাল খাবার খাওয়ার পর বুকে জ্বালাপোড়া প্রভৃতি লক্ষণে অত্যন্ত কার্যকর ।
সেবনবিধিঃ- ১০ ফোঁটা করে আধা কাপ পানিতে মিশিয়ে ৩ বার আহারের পুর্বে সেব্য ।

৭. Justicia ( জাষ্টিসিয়া ):-
ইহা কাশি, সর্দি, ইনফ্লুয়েঞ্জা, হাপানি, খিচুনি, শ্বাসকষ্ট, রক্ত দৃষ্টি, বুকের মধ্যে জমাট বাধা কাশি, কাশির সহিত বমি, বা বমি বমি ভাব, সেই সাথে জ্বর বা জ্বর জ্বর ভাব, ঠান্ডা জনিত কাশি ও ঘন ঘন হাচি, কাশতে কাশতে বুক ফেটে যায় এমন ভাব, অধিক তৃষ্ণা লাগা, অরুচি ইত্যাদি লক্ষনে সর্বোত্তম ঔষধ । সেবনবিধিঃ- প্রাপ্ত বয়স্কঃ ২ চা-চামচ, অপ্রাপ্ত বয়স্কঃ ১ চা-চামচ ৩/৪ বার সেব্য । ড্রপঃ শিশুদের ১০ – ২০ ফোঁটা করে ৩/৪ বার সেব্য ।

৮. Mentomax ( মেন্টোম্যাক্স ):-
হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট, কাশি, বুকের মধ্যে সাঁই সাঁই শব্দ, হুপিংকাশি, তৎসহ প্রচুর শ্লেষ্মা নির্গমন, সর্দি, ইনফ্লুয়েঞ্জা, ব্রঙ্কাইটিস, রক্তদৃষ্টি অরুচি ইত্যাদি লক্ষণে কার্যকর । সেবনবিধিঃ- প্রাপ্ত বয়স্ক ১০ ফোঁটা অপ্রাপ্ত বয়স্ক ৫ ফোঁটা করে আধা কাপ পানিতে মিশিয়ে ৩/৪ বার আহারের পুর্বে সেব্য ।

৯. Adhomax ( এ্যাঢোম্যাক্স ):-
ঠান্ডা ও ব্রঙ্কাইটিস জনিত কষ্টকর কাশি, বুকের মধ্যে প্রচন্ড চাপের অনুভূতি, গলার মধ্যে সুড়সুড়ি সহ কাশি, আক্ষেপ ও শ্বাওরুদ্ধকর কাশির সাথে বমি বমি ভাব বা বমি । ১. ঠান্ডা জনিত কাশি ও জ্বর, সর্দি, ইনফ্লুয়েঞ্জা, হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট, রক্তদৃষ্টি অরুচি । ২. হুপিংকাশির প্রধান ঔষধ, কাশি অত্যন্ত গভীর ও স্বরভঙ্গযুক্ত, মধ্যরাতের পর কাশি বৃদ্ধি । ৩. কন্ঠনালী শুষ্ক, জ্বালাকর ও সংকুচিত, কাশি শুষ্ক, কন্ঠনালী স্পর্শকাতর, মধ্য রাতের পুর্বে ও পানি পানে হ্রাস । ৪. বুকের মধ্যে টাটানি ব্যথাসহ শ্লেষ্মা জনিত কারনে ঘড়গড়ানী শব্দ, কন্ঠনালীতে শ্লেষ্মা, শ্লেষ্মা নির্গমন সহ শ্বসনালীর প্রদাহ ।
সেবনবিধিঃ- প্রাপ্ত বয়স্কঃ ১ – ২ চা-চামচ ৩ বার, অবস্থার উন্নতি হলে ২ বার সেব্য । শিশুদের ক্ষেত্রে প্রাপ্ত বয়স্কদের অর্ধেক সেব্য ।

১০. Azomin / Antico ( এ্যাজোমিন / এ্যান্টিকো ):-
কাশি তৎসহ বুকে ব্যথা, স্বরভঙ্গ ও সর্দি-জ্বরে কার্যকর । ১. হাঁপানির প্রবল টান ও শ্বসকষ্ট, বাম বুকের উপর ভারবোধ, স্বরভঙ্গ ইত্যাদি লক্ষণে । ২. বুকে সূচ ফোটানো বেদনা সহ খুকখুকে কাশি, দ্রুত গতির শ্বাসক্রিয়া নড়াচড়ায় বৃদ্ধি ৩. শুষ্ক কাশি, বমিভাব সহ কাশি ।
৪. ল্যারিনজাইটিস, কাশি তৎসহ গলায় টাটানি ব্যথা, কাশতে গেলে বুকে ও মাথায় আঘাত লাগে ।
সেবনবিধিঃ- প্রাপ্ত বয়স্কঃ ২ ট্যাবলেট ও অপ্রাপ্ত বয়স্কঃ ১ ট্যাবলেট ৩/৪ বার, চুষে খাওয়ার জন্য ।

১১. Tromax / Tonslaid ( ট্রোম্যাক্স / টন্সলেইড ):-
নতুন এবং পুরাতন সাইনোসাইটিস, সর্দি স্রাব, নাসারন্ধ্রের মাধ্যমে শ্বাস গ্রহণে সমস্যা, স্বাদ ও ঘ্রান শক্তির অনুভূতি কমে যাওয়া । এছাড়াও শিশুদের নাকের মাংসপিন্ড বেড়ে যাওয়া সহ অন্যান্য লক্ষণে কার্যকর ।
সেবনবিধিঃ- প্রাপ্ত বয়স্কঃ ২ ট্যাবলেট ও অপ্রাপ্ত বয়স্কঃ ১ ট্যাবলেট ৩/৪ বার, চুষে খাওয়ার জন্য ।

১২. Kali Bichrom 12 / Sinolaid ( ক্যালি বাইক্রোম ১২ / সিনোলেইড ):-
সকল প্রকার শ্বেত প্রদর ( লিউকোরিয়া ), মুখের ক্ষত, বমনোদ্বেগ প্রভৃতি লক্ষণে অত্যন্ত কার্যকর । লিউকোরিয়া বিশেষ করে মহিলাদের সাদা স্রাব কিংবা ডিমের লালার মত শ্বত, গরম চটচটে স্রাব প্রচুর পরিমানে নির্গত হওয়া । অনিয়মিত ঋতুস্রাব সহ বেদনা, যোনি পথে চুলকানি ও প্রদাহ সহ বোরাক্সের অন্যান্য লক্ষণে কার্যকর ।
সেবনবিধিঃ- তরুন রোগের ক্ষেত্রে ১০ ফোঁটা ১ – ২ ঘন্টা পরপর, পুরাতন রোগের ক্ষেত্রে ১০ – ১৫ ফোঁটা ৩/৪ বার সামান্য পানি সহ সেব্য ।

১৩. Dibomax / Dianil ( ডাইবোম্যাক্স / ডায়ানিল ):-
সিজিজিয়াম জাম্ব শর্করাযুক্ত বহুমুত্র রোগে ইহা অত্যন্ত কার্যকরী । এ ক্ষেত্রে ডায়াবেটিস মেলিটাসের লক্ষণ গুলো অবশ্যই থাকতে হবে । প্রস্রাবে সর্করার পরিমান হ্রাস করতে, দুর্বলতা, শীর্ণতা, অধিক পরিমানে বার বার প্রস্রাব, প্রস্রাবের আপেক্ষিক ঘনত্ব বৃদ্ধি, বহুমূত্রের কারনে শরীরের ক্ষত প্রভৃতি সহ সিজিজিয়ামের অন্যান্য লক্ষণে কার্যকর । প্রস্রাবে শর্করার অংশ অধিক ও রোগী অত্যন্ত দুর্বল হলে ইহা প্রত্যহ সেবনে আশানুরূপ ফল পাওয়া যায় ।
সেবনবিধিঃ- রক্তে শর্করা বা সুগারের ব্যপকতা অনুসারে দিনে ২ – ৩ বার ১০ – ২০ ফোটা আধা কাপ পানিতে মিশিয়ে আহারের আধা ঘন্টা পুর্বে বা পরে সেব্য । শুধুমাত্র Non-Insulin dependant ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য প্রযোজ্য ।

১৪. Rauwolfia / Rawol ( রাওলফিয়া / রাউল ):-
উচ্চ রক্তচাপ ও অনিদ্রার একটি উৎকৃষ্ট ঔষধ । প্রসূতি অবস্থায় জ্বর, মৃগী, সন্ন্যাস ও যেকোন উম্মাদশ চরম উত্তেজনাপূর্ণ মানসিক বিকৃতির অবস্থা বিশেষে ইহা উপযোগীতার সহিত ব্যবহৃত হয় ।
সেবনবিধিঃ- ১০ – ১৫ ফোঁটা করে আধা কাপ পানিতে মিশিয়ে ৩/৪ বার সেব্য ।

১৫. Arjuna ( অর্জুনা ):-
হৃদপিণ্ডের পীড়া, হৃদস্পন্দন, হৃদপিণ্ডের দুর্বলতা, বুকের ভিতর ব্যথা, অল্প পরিশ্রমে বুকের ভিতর ফরফর করা, শ্বাসকষ্ট, রক্তচাপ, পরিশ্রমে অনিহা ইত্যাদি লক্ষণে অত্যন্ত কার্যকর । সেবনবিধিঃ- প্রাপ্ত বয়স্কঃ ২০ – ৩০ ফোঁটা, অপ্রাপ্ত বয়স্কঃ ৫ – ১০ ফোঁটা করে ৩ বার আহারের পর সেব্য ।

১৬. China Off ( চায়না ):-
জ্বর, রক্ত স্বল্পতা ও সেই সঙ্গে খুব বেশি ফ্যাকাশে ভাব, স্নায়ুবিক উত্তেজনা, লিভার ও অন্ত্রের গোলযোগ, পিত্তস্বাদ, মহিলাদের অনিয়মিত ঋতুস্রাবের ফলে শরীর দুর্বল হয়ে যাওয়া, প্রসবকালীন রক্তস্রাবের পর দুর্বলতা, উদাসিনতা, অনিদ্রা ইত্যাদি রোগে কার্যকর ।
সেবনবিধিঃ- ৪ চা চামচ করে আধা কাপ কুসুম গরম পানিতে মিশিয়ে ৩ বার আহারের পর সেব্য ।

১৭. Aesculamar / Demorrhoid ( এসকুলামার / ডেমোরেইড ):-
অর্শ ও ভগন্দরে – রক্তস্রাবী ও রক্তবিহিন উভয় ক্ষেত্রে কার্যকর । ১. মলদ্বারে শুষ্কতা এবং চুলকানি থাকে । ২. মলদ্বারে তীরবিদ্ধবৎ যন্ত্রনা । ৩. সরলান্ত্রের নর্গমন, মলদ্বার ও সরলান্ত্রে জ্বালা, শক্ত গাঁটযুক্ত ও কদর্মের ন্যায় মল, মল শুষ্ক ।
সেবনবিধিঃ- প্রাপ্ত বয়স্ক ১০ ফোঁটা করে আধা কাপ পানিতে মিশিয়ে ৩/৪ বার আহারের পুর্বে সেব্য, তরুন রোগের ক্ষেত্রে আরো ঘন ঘন ব্যবহার হতে পারে এমনকি ১ ঘন্টা পর পর ।

১৮. Alfa Alfa Plus / Alfa ( আলফা আলফা প্লাস / আলফা ):-
ক্ষুধা মন্দা, ক্লান্তি, অবসাদ দূর করে, প্রসূতির শারীরিক দুর্বলতা দূর ও মাতৃদুগ্ধ বৃদ্ধি করে, শরীরের স্বাভাবিক গতি বৃদ্ধি ও সু-স্বাস্থ্যের অধিকারী করে তুলে । ১. হজম, দৈহিক – মানসিক – স্নায়ুবিক শক্তি বৃদ্ধি, দেহের ওজন ও রক্ত বৃদ্ধি করে । ২. সাধারণ দুর্বলতা দূর করে, যৌন শক্তি বৃদ্ধি করে । (৩) ক্ষুধামন্দা, অজীর্ণ, বদহজম, কোষ্ঠকাঠিন্য, জন্ডিস ইত্যাদি দূর করে ।
সেবনবিধিঃ- প্রাপ্ত বয়স্কঃ ১ টেবিল চামচ ও অপ্রাপ্ত বয়স্কঃ ১ চা-চামচ দিনে ৩ বার আহারের ১ ঘন্টা পূর্বে সেব্য ।

১৯. Chelidonium Maj / Hetro ( চেলিডনিয়াম মেজ / হেটরো ):-
লিভারের প্রদাহ ও জন্ডিসের যাবতীয় লক্ষণে অত্যন্ত কার্যকর । লিভারের চতুর্দিকে তীরের মত বিদ্ধ করে এমন ব্যথা । চোখ, হাত-মুখের চামড়া হলুদ হয়ে যাওয়া, এমনকি প্রস্রাব হলুদাভ । ক্ষুধা মন্দা, বমি বা বমি বমি ভাব ও পিত্ত সংক্রান্ত যাবতীয় লক্ষণে ইহা বযবহার করা যায় ।
সেবনবিধিঃ- প্রাপ্ত বয়স্কঃ ১৫ – ২০ ফোঁটা, অপ্রাপ্ত বয়স্কঃ ৫ – ৮ ফোঁটা করে ৩ / ৪ বার আহারের পর সেব্য ।

২০. Kalmegh ( কালমেঘ ):-
কালমেঘ বেশির ভাগ শিশুদের ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয় । লভার, প্লিহা ও পেটের পীড়ায় ইহা অত্যন্ত কার্যকর । লিভার ও প্লিহার বৈকল্য জনিত কারণে সৃষ্ট উপসর্গঃ পিত্তরস ক্ষরণ, অজীর্ণ, পেটফাঁপা, অরুচি, গলা-বুক জ্বলা, মুখ / জিহ্বায় তিক্ত স্বাদবোধ, কোষ্ঠকাঠিন্য, বমি বমি ভাব, পিত্তমল নির্গমন প্রভৃতি রোগে ব্যবহার করা যায় । ম্যালেরিয়া জ্বরে প্রচলিত যেকোন ঔষধ অপেক্ষা ইহা অত্যন্ত কার্যকরী । নতুন বা পুরাতন জ্বর, পিপাসা, মাথা ধরা, চোখ – মুখ ও হাত – পায়ে জ্বালা, জিহ্বায় সাদা প্রলেপ, পেট ভার বোধ প্রভিতি লক্ষণে ব্যবহৃত হয় । এ ছাড়াও বিশেষভাবে কৃমি নাশক, বলকারক, আম ও বায়-পিত্তনাশক হিসাবে অত্যন্ত কার্যকর ।
সেবনবিধিঃ- প্রাপ্ত বয়স্কঃ ১০ – ১৫ ফোঁটা, অপ্রাপ্ত বয়স্কঃ ৩ – ৫ ফোঁটা করে ৩ / ৪ বার আহারের পর সেব্য ।

২১. Amloki ( আমলকি ):-
খাবারে অরুচি, অজীর্ণতা, পেটের যাবতীয় পীড়ায় আমলকি অত্যন্ত কার্যকর । বমি, কফ, চুলপড়া, খুশকি, ভিটামিন ‘সি’ এর অভাব জনিত বিভিন্ন রোগ লক্ষণে ব্যবহৃত হয় ।
সেবনবিধিঃ- প্রাপ্ত বয়স্কঃ ১ চা-চামচ, অপ্রাপ্ত বয়স্কঃ আধা চা-চামচ আধা কাপ পানিতে মিশিয়ে ৩ / ৪ বার আহারের পর সেব্য ।

২২. Neumatox / Rhemax ( নিউম্যাটক্স / রিম্যাক্স ):-
সন্ধি ও কটি বাত সহ সকল প্রকার বাত-বেদনা ও বাতজ্বরে অত্যন্ত কার্যকর । ১. লাল স্ফিত সন্ধিস্থল, উত্তপ্ত তৎসহ সূচ ফুটানো কেটে ফেলার মত বেদনা, নাড়াচড়ায় বৃদ্ধি, হাত-পা গুলি আড়ষ্ঠ এবং যন্ত্রণাদায়ক, চাপ দিলে বেদনা বোধ । ২. হাত-পা সমুহ পক্ষাঘাতগ্রস্থ, কোমরে বেদনা । ৩. বাতজনিত বেদনা; কটিদেশ ও হাত-পায়ে বিস্তৃত, নাড়াচড়ায় উপশম । ৪. বাতজনিত বেদনা প্রতঃকালে বৃদ্ধি, দক্ষিণ কাঁধে তীর বিদ্ধের মত বেদনা, আড়ষ্ঠতা, বেদনা বিদ্যুতের ন্যায় দ্রুত সঞ্চালিত হয় ।
সেবনবিধিঃ- প্রাপ্ত বয়স্কঃ ১০ ফোঁটা, অপ্রাপ্ত বয়স্কঃ ৫ ফোঁটা করে ৩ / ৪ বার আধা কাপ পানিতে মিশিয়ে আহারের পুর্বে সেব্য ।

২৩. Mila Mona ( মিলা মোনা ):-
শিশুদের অপুষ্টি, অরুচি ও পেটের পীড়ায় সর্বোপেক্ষা কার্যকরি ।
সেবনবিধিঃ- শিশুদের ১ – ২ চা-চামচ ৩ বার ।
২৪. Fytolos ( ফাইটোলস ):- দেহের স্থুলতা, মেদ ও অধিক ওজন কমাতে অত্যন্ত কার্যকর ।
সেবনবিধিঃ- প্রাপ্ত বয়স্কঃ ২ ট্যাবলেট ও অপ্রাপ্ত বয়স্কঃ ১ ট্যাবলেট ৩/৪ বার, চুষে খাওয়ার জন্য । গর্ভাবস্থায় সেবন নিষিদ্ধ ।
২৫. Avena Sativa ( এভেনা স্যাটাইভা ):-
যে কোন ধরনের দুর্বলতা – শারীরিক, স্নায়ুবিক এবং যৌন দুর্বলতায় অত্যন্ত কার্যকরি । এ ছাড়াও জননেন্দ্রিয়ের উপর অত্যাচার জনিত কারনে অজ্ঞাতসারে শুক্র নিঃসরন, ধ্বজভঙ্গ, যৌন দুর্বলতা, গর্ভবতী ও প্রসূতিদের রক্তসল্পতা, শারীরিক দুর্বলতা ইত্যাদি লক্ষনে ব্যবহৃত হয় । নিয়মিত সেবনে স্নায়ু ও যৌনশক্তি বৃদ্ধি করে স্ত্রী সহবাসে সক্ষম করে তোলে । বৃদ্ধদের দুর্বলতা হ্রাস করে ।
সেবনবিধিঃ- প্রাপ্ত বয়স্কঃ ২ – ৩ চা-চামচ, অপ্রাপ্ত বয়স্কঃ ১ – ২ চা-চামচ ৩ বার আহারের পর সেব্য ।

২৬. Ginseng ( জিনসেং ):-
দৈহিক ও মানসিক ক্ষমতা বৃদ্ধিতে জিনসেং অত্যন্ত কার্যকর । যৌন দুর্বলতার ক্ষেত্রেও বিশেষ কাজ করে । ক্লান্তি দূর করতে, মনোযোগ বৃদ্ধিতে এবং আরোগ্যকালীন সময়ে এর ফলপ্রদ ব্যবহার লক্ষ্য করা যায় । এ ছাড়া বাত, চর্ম রোগ, মাথা ব্যথা, দৃষ্টিভ্রম, টনসিলের প্রদাহ এবং তলপেটের ব্যথায় কার্যকর । সেবনবিধিঃ- প্রাপ্ত বয়স্কঃ ২ চা-চামচ ৩ বার আহারের পর সেব্য ।

২৭. Mullen Oil / Mullein ( মুলেন অয়েল / মুলেন ):-
কানপাকা, কানের ভিতর বেদনা, কান হতে পুঁজ নিঃসৃত হওয়া এবং কর্ণ সংক্রান্ত যাবতীয় রোগে মূলেন অয়েল অত্যন্ত কার্যকর ।
সেবনবিধিঃ- ১ – ২ ফোঁটা করে ১ – ২ বার আক্রান্ত কানের ভেতর ব্যবহার্য ।
Ointment ( অয়েন্টমেন্ট )
সকল অয়েন্টমেন্ট আক্রান্ত স্থান পরিষ্কার করে প্রত্যহ ৩ – ৪ বার শুধুমাত্র বাহ্যিক ব্যবহারের জন্য ।
২৮. Arnica Montana ( আর্নিকা মন্টেনা ):- মচকানো ও আঘাতজনিত থ্যাঁতলানো ব্যথায় অত্যন্ত কার্যকর ।
২৯. Calendula ( ক্যালেন্ডোলা ):- কাটা-ছেড়া, থ্যাঁতলানো ক্ষত, পোড়া ঘা, ত্বক ছিড়ে বা ফেটে যাওয়ায় বিশেষভাবে কার্যকর ।
৩০. Cantharis ( ক্যান্থারিস ):- আগুনে পোড়া বা গরম পদার্থ থেকে সৃষ্ট ফোস্কা যাতীয় ক্ষত, তৎসহ প্রচন্ড জ্বালা ও টাটানি ব্যথায় কার্যকর ।
৩১. Graphites ( গ্রাফাইটিস ):- একজিমা, দাদ, খোস পাঁচড়া ও অন্যান্য চর্মরোগের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী একটি মলম ।
৩২. Rhus Tox ( রাসটক্স ):- সন্ধিস্থল এবং মাংসপেশীর ব্যথায় অধিক কার্যকর । সন্ধিসমুহের স্ফীতিসহ ব্যথা, আড়ষ্টতাএবং হাড়ের পেছনের মাংসপেশির শক্ত হয়ে যাওয়া ইত্যাদি লক্ষণে অত্যন্ত কার্যকর । বাতজনিত বেদনা এবং সায়টিকায় ইহা ব্যাবহার্য ।

হোমিওপ্যথিক ঔষধ
(প্রথম পর্যায়ের ঔষধ, সদস্যভূক্ত পরিবারের মাঝে বিনামূল্যে প্রদানের জন্য)

1. Aconite Napellus ( একোনাইট ন্যাপ )
2. Belladona ( বেলেডোনা )
3. Rhus Tox ( রাস টক্স )
4. Bryonia ( ব্রায়োনিয়া )
5. Aloe Socotrina ( এলো সকোট্রিনা )
6. Allium Cepa ( এলিয়াম স্যাপা )
7. China ( চায়না )
8. Chammomila ( ক্যামোমিলা )
9. Carbo Vez ( কার্ব ভেজ )
10. Lycopodium ( লাইকোপোডিয়াম )
11. Arnica Montana ( আর্ণিকা মন্টেনা )
12. Collinsonia ( কলিনসোনিয়া )
13. Heper Sulphur ( হিপার সালফার )
14. Nux Vomica ( নাক্স ভমিকা )
15. Arsenica Album ( আর্সেনিক এল্বাম )
16. Euphrasia ( ইউফ্রেশিয়া )
17. Cina ( সিনা )
18. Ipecac ( ইপিকাক )
19. Merc Sol ( মার্কসল )
20. Borax ( বোরাক্স )
21. Natrum Mur ( নেট্রামিউর )
22. Pulsatilla ( পালসেটিলা )
23. Sepia ( সিপিয়া )
24. Antim Crud ( অ্যান্টিম ক্রুড )
25. Silicea ( সাইলেসিয়া )
26. Sulphur ( সালফার )
27. Acid Phos ( এসিড ফস )
28. Thuja Oxi ( থুজা অক্সি )
29. Graphites ( গ্রাফাইটিস )
30. Gelsimium ( জেলসেমিয়াম )
31. Ignesia ( ইগনেশিয়া )
32. Spigelia ( স্পাইজেলিয়া )
33. Uranium nit ( ইউরেনিয়াম নাইট )
34. Ledum Pol ( লিডাম পল )

১. Aconite Napellus ( একোনাইট ন্যাপ ):-
*১. ভয়, মৃত্যু ভয় । মানসিক উৎকণ্ঠা, অস্থিরতা, রোগী তার মৃত্ত্যুর সময় নির্দিষ্ট করে বলে । *২. প্রচুর পানি পিপাসা সাথে জ্বালাপোড়া থাকে ও পূনঃ পূনঃ পানি পান করে । *৩. হঠাৎ আক্রমন করে প্রকট আকার ধারন করে । আবার হঠাৎ চলে যায় । ৪. উদরাময়ে মল সবুজ পিত্ত মিশ্রিত । ৫. প্রচন্ড শীত বা প্রচন্ড গরমের প্রকোপ । ৬. যে কোন প্রদাহের প্রথম অবস্থায় ব্যবহার করা যায় । ৭. প্রচন্ড পেট ব্যথা, অনেক ভেদবমিও ভীষন ভাবে আক্রমন করে । ৮. নিউমোনিয়ায় শুস্ককাশি বা তরল কাশির সাথে রক্তমিশ্রিত । ৯. সহজেই টাটকা রক্ত বের হয়ে যায় যে কোন রাস্তায় ।
বৃদ্ধিঃ- গরম ঘরে, সন্ধ্যায় ও রাত্রে, আক্রান্ত অঙ্গের উপর শয়নে ও শীতল বায়ু গায়ে লাগিলে । হ্রাসঃ- মুক্ত বাতাসে ও ঘর্ম দেখা দিলে ।

২. Belladona (বেলেডোনা ):-
*১. আক্রান্ত স্থান প্রচুর উত্তপ্ত থাকে এবং ফুলে যায় ।
*২. হঠাৎই আক্রমন এবং হঠাৎই প্রকট আকার ধারন করে, আবার হঠাৎই চলে যায় ।
৩. প্রচুর পরিমানে ব্যাথা এবং আক্রান্ত স্থান লালবর্ণ, প্রচুর গরম, স্পর্শকাতর ।
৪. চর্ম শুষ্ক এবং উত্তপ্ত ।
৫. রোগী আবোল তাবোল প্রলাপ বকে ।
৬. জিহ্বা কিনারা গুলো লাল এবং বেদনাদায়ক, প্রচুর শুষ্ক ।
৭. রোগীর মাথা প্রচন্ড গরম কিন্তু হাত পা ঠান্ডা থাকে ।
৮. প্রচুর মাথাব্যাথা, শীতকাতর।
৯. রোগী দেখতে উজ্জ্বল প্রকৃতির, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ।
১০. বাতরোগের জন্য ফলপ্রসু যখন আক্রান্ত স্থান লালবর্ণ, ফুলা ।
বৃদ্ধিঃ- আলোতে, শব্দে, ঝাকুনিতে, শয়নে, ঠান্ডা বাতাসে, রাত্রে ৩ ঘটিকার সময় । হ্রাসঃ- বসিয়া বা দাঁড়িয়ে থাকিলে, গরম ঘরে, বিশ্রামে ।

৩. Rhus Tox ( রাস টক্স ):-
*১. ঠান্ডা জনিত, আবহাওয়া পরিবর্তনের কারনে সর্দি, কাশি, জ্বর, মাথা ব্যাথা, সকল ধরনের ব্যাথায় ফলপ্রসু । *২. শরীরে যে কোন ধরনের ব্যাথা, নড়াচড়ায় তার উপশম হয় এবং রাতে বৃদ্ধি পায় । *৩. রোগীর জিহ্বার আগায় লাল বর্ণের ত্রিকোনাকৃতি একটা ছাপ পাওয়া যায় । *৪. বাত জ্বরের অন্যতম ঔষধ । *৫. শরীর চুলকানি, একজিমা ইত্যাদি জাতীয় চর্মরোগ যদি রাত্রে বৃদ্ধি পায় সে ক্ষেত্রে ইহা ফলপ্রসু । ৬. বর্ষাকালে বৃদ্ধি, বৃষ্টির দিনে, স্যাতস্যাতে পরিবেশ থেকে রোগের উৎপত্তি । ৭. পিপাসা প্রচুর ।
বৃদ্ধিঃ- ভূরের আগে, ভেজা বর্ষার দিনে, ঘামে ভিজে সর্দি, বিশ্রামের পর । হ্রাসঃ- গরমে, শুকনো, নড়াচড়ায় উপশম ।

৪. Bryonia ( ব্রায়োনিয়া ):-
*১. নাড়াচড়া করলে বৃদ্ধি, বিশ্রামে উপশম । *২. প্রচুর পরিমানে শুস্কতা । *৩. পানি পিপাসা প্রচুর । *৪. কোষ্ঠকাঠিন্য । ৫. শুস্ক কাশি । ৬. ঘর্ম প্রচুর । ৭. ডান দিকে সকল রোগের আক্রমন । ৮. আক্রান্ত স্থান বেদনাযুক্ত, চাপিয়া ধরিলে উপশম । ৯. স্তনদ্বয় পাথরের ন্যায় শক্ত, কঠিন,গরম ও বেদনাযুক্ত । ১০. রোগী প্রচুর পরিমানে রাগী স্বভাবের এবং ক্ষীপ্ত মেজাজী হয় । ১১. বাতরোগের সাথে ফুলা থাকবে ।
বৃদ্ধিঃ- গরম ঘরে, সঞ্চালনে, স্পর্শে । হ্রাসঃ- শয়নে, ঠান্ডা বস্তু খাওয়ায়, বেদনাযুক্ত স্থান চাপিয়া শয়নে ।

৫. Aloe Socotrina ( এলো সকোট্রিনা ):-
*১. প্রচুর পরিমানে বায়ুপুর্ণ্য থাকে ও বায়ু দুর্গন্ধযুক্ত ।
*২. মলদ্বারের অক্ষমতা ও অসাড়ে মলত্যাগ, অর্শ, রোগী পায়খানা ধরে রাখার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে ।
*৩. কোষ্ঠকাঠিন্যও আছে, প্রায়ই পেট ব্যথা বা অর্শ দেখা যায়, অর্শ আঙ্গুরের থোকার মত মলদ্বারের বাইরে অবস্থান করে, রক্ত পড়ে । ঠান্ডা পানিতে অর্শের উপশম । মলদ্বারে জ্বালা করতে থাকে ।
৪. খাওয়ার পর পরই বাহ্য হয়, মলদ্বার যেন খোলা থাকে ।
৫. প্রচুর পেট ব্যাথা, নাভির চারদিকে ব্যাথা ।
৬. মলদ্বার চুলকায় এবং জ্বালা ।
বৃদ্ধিঃ- আহারে বৃদ্ধি, অতি প্রাতুষ্যে । হ্রাসঃ- শীতল জলে, মুক্ত বাতাসে ।

৬. Allium Cepa ( এলিয়াম স্যাপা ):-
*১. নাক দিয়ে প্রচুর পানি পড়ে ।
২. শীতল বাতাস অসহ্য, সর্দি, মাথা ধরা, দাঁতে যন্ত্রনা ।
৩. গলিত কৃষ্ঠ, বিষধর সাপে কাটা, পাগলা শিয়াল-কুকুর ও বিষাক্ত পোকামাকড়ে কামড়ালে ।
৪. পেটে হঠাৎ গ্যাস জমে গেলে, পেট ফাঁপা, শ্বাসকষ্টে, হাঁপানি, দুর্গন্ধযুক্ত কফ ।
৫. ঘা, ফোড়া, কাঁটা, ছেড়া, চর্ম রোগ ।

৭. China ( চায়না ):-
*১. রোগী অত্যন্ত দুর্বল । মানসিক ও শারীরিক ভাবে ।
*২. শরীর থেকে ভাইটাল ফ্লুইড (ঘাম, সাদা স্রাব, মল ইত্যাদি) বের হয়ে যায় ।
*৩. পেট ফাপা থাকে খাবার হজম হয়না ।
৪. মৃত্যু কামনা করে বটে কিন্তু আত্মহত্যা করার সাহস পায়না ।
৫. রক্তশূন্যতায় ভোগে ।
৬. উদরাময় রাতে বৃদ্ধি পায় ।
৭. নির্দিষ্ট সময়ে বা নিয়মিতভাবে রোগাক্রমন ।
বৃদ্ধিঃ- সামান্য বাতাসে, একদিন অন্তর একদিন । হ্রাসঃ- জোড়ে চাপ দিলে, উপর হইলে ।

৮. Chammomila ( ক্যামোমিলা ):-
*১. শিশুরা ঘ্যান ঘ্যান করে কাঁদতে থাকে, রাগ করে, কোলে নিলেই চুপ ।
*২. কলহপ্রিয়তা, রোগী গায়ে পড়ে ঝগড়া করে ।
৩. স্পর্শকাতর, সামান্য কথা সহ্য করতে পারেনা ।
৪. দাঁত উঠার সময় পেটে গোলযোগ দেখা দেওয়া ।
৫. মলের বর্ণ সবুজ, অত্যন্ত দুর্গন্ধ ।
৬. শিশুদের গাল একটি লাল ও গরম অপরটি ঠান্ডা ও ফ্যাকাসে ।
৭. বমির সাথে পেট ব্যাথা । যত ব্যাথা তত পিপাসা ও উত্তাপ ।
বৃদ্ধিঃ- গরমে, ক্রোধে, খোলা বাতাসে । হ্রাসঃ- কোলে লইয়া বেড়াইলে, উপবাস করিলে ।

৯. Carbo Vez ( কার্বো ভেজ ):-
*১. পেটের মধ্যে প্রচুর বায়ু সঞ্চার ও উদগারে উপশম ।
*২. ঢেকুর ও মলদ্বার দিয়ে বায়ু সঞ্চার হলে উপশম ।
৩. শরীরের ঘাম অনেক ঠান্ডা, বাতাসের জন্য ব্যাকুলতা ।
৪. শরীরের নানা স্থান হতে রক্ত স্রাব বের হয় যেমন- নাক, মুখ, মলদ্বার, প্রস্রাবের পর ।
৫. যেমন হিমাঙ্গ অবস্থা তেমনই জ্বালা । ৬. উপরের পেটে প্রচুর পীড়া থাকে ।
বৃদ্ধিঃ- সন্ধ্যায় ও রাত্রির খোলা বাতাসে, বর্ষায়, চর্বি ও দুধ খাইলে, মদ সেবনে । হ্রাসঃ- ঢেকুর উঠিলে, ঠান্ডায়, পাখার বাতাসে ।

১০. Lycopodium ( লাইকোপোডিয়াম ):-
*১. বিকাল ৪টা – ৮টা পর্যন্ত সকল প্রকার লক্ষণের বৃদ্ধি ।
*২. প্রচুর পরিমান ক্ষুধা ও ক্ষুধার নিবারণ না করা হেতু মাথা ব্যাথা, পেট ব্যাথা ইত্যাদির বৃদ্ধি । পেটুক স্বভাবের ।
*৩. শরীরে ডান দিকে রোগের আক্রমন ।
*৪. গরম খাবার পছন্দ ।
*৫. পেটে প্রচুর বায়ুর সঞ্চার ঘটে ।
*৬. পেঁয়াজ, বাঁধাকপি, দুধ অসহ্য লাগে ।
*৭. প্রস্রাবের তলানিতে ইটের গুড়ার মত তলানি দেখা যায় । রাতে প্রস্রাব বেশী হয় ।
৮. রোগী অল্পতেই বৃদ্ধ হয়ে যায় এবং ৪০ – ৪৫ বছর বয়সের রোগীদের যৌন দুর্বলতা দেখা দেয় ।
৯. গর্ভবতী না হইয়াও স্তনে দুধ ।
১০. রোগী কৃপন স্বভাবের ।
১১. প্রস্রাব কমিয়া শোধ (ফুলা) দেখা দেয় ।
১২. ফোটা ফোটা প্রস্রাব বের হয়ে যায় ।
১৩. প্রবল ইচ্ছা থাকা স্বত্ত্বেও সহবাস করার ক্ষমতা নাই ।
বৃদ্ধিঃ- বিকাল ৪টা – রাত ৮টা, ঠান্ডা খাদ্যে, খোলা বাতাসে । হ্রাসঃ- খাওয়ার পর, মাসিক স্রাবের পর ।

১১. Arnica Montana ( আর্ণিকা মন্টেনা ):-
*১. যে কোন প্রকার শারীরিক আঘাত তরুণ বা পুরাতন ।
*২. মাংস পেশিতে ব্যথা ।
৩. আঘাত লাগিয়া কালশিরা পরিয়া গেলে ।
৪. আঘাত,পতন,প্রহার, থেৎলে যাওয়া প্রভৃতি অবস্থার ক্ষেত্রে ইহা প্রথম ঔষধ ।
৫. বিষাক্ত বা পচন ক্রিয়া, ঘটিত রোগ সংক্রমণে ইহা প্রতিষেধক ।
৬. সমস্ত শরীরে প্রচুর –ব্যাথা ।
৭. মুখের স্বাদ -পচা ডিমের স্বাদ ।
৮. কাটিয়া গেলে বা ছাল উঠিয়া গেলে ইহা ব্যবহার করা উচিত নহে ।
৯. শয্যা খুব শক্ত বলিয়া মনে হয় ।
১০. অনিদ্রা ।
১১. রোগীর মাথা গরম, শরীর ঠান্ডা থাকে ।
বৃদ্ধিঃ- স্পর্শে, দেহ চলনে, ভিজা বায়ুতে, মদ্যপানে ও আঘাতে । হ্রাসঃ- বিশ্রামে, খোলা বাসে, নীচু মস্তকে শয়নে ।

১২. Collinsonia ( কলিনসোনিয়া ):-
১. পাইলস, বিশেষ করে রক্ত পড়লে ।
২. কোষ্ঠকাঠিন্য ।
৩. মাসিক চলাকালিন সময়ে পেটব্যথা ।
৪. পায়খানার সাথে রক্ত পড়ে ।
৫. অত্যন্ত দুর্বলতায় ।
৬. পায়খানার রাস্তায় চুলকানি ।
বৃদ্ধিঃ- উত্তেজনায়, মানসিক অসান্তি, শারীরিক দুর্বলতায়, ঠান্ডায় । হ্রাসঃ- গরমে, বিশ্রামে ।

১৩. Heper Sulph ( হিপার সালফার ):-
*১. ফোড়া অত্যন্ত ব্যাথাযুক্ত হয় ও গরম সেকায় উপশম হয় ।
*২. স্পর্শকাতর ব্যাথা আক্রান্ত স্থান ।
*৩. ফোড়া ফেটে দেওয়ার জন্য ব্যাবহার ।
*৪. আক্রান্ত স্থান শক্ত এবং পুঁজযুক্ত হয় ।
৫. রোগী একাকিত্বে থাকার আগ্রহ প্রকাশ করে ।
৬. পুরাতন কাশি, বুকে ব্যাথা । কফ ঘন ঘন উঠে ।
৭. মনের কষ্ট ভাগাভাগি করতে অপছন্দ করে ।

১৪. Nux Vomica ( নাক্স ভম ):-
*১. ঐ সকল রোগীদের ক্ষেত্রে ফল যারা প্রচুর পরিমানে নেশা, অনিয়মিত জীবন যাপন করে ।
*২. প্রচুর পরিমান ঔষধ সেবনের কুফল ।
*৩. হস্তমৈথুনের কুফলই যৌন রোগের মূল কারন, এতে অনেক ফলপ্রসু হয় ।
*৪. বুক জ্বালাপোড়া এবং পেট ফাপা, অনিয়মিত পায়খানা ।
*৫. বার বার মলত্যাগের ইচ্ছা কিন্তু সফল হয়না ।
*৬. মানসিক পরিশ্রম বেশী করেন তাদের ক্ষেত্রে যে কোন সমস্যা ।
*৭. স্কুল শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত পড়াশোনার কারনে অসুস্থ্য হয়ে পড়লে । রাতে ।
৮. প্রসব বেদনা বা ঋতু কষ্টের সহিত মূত্র ত্যাগের ইচ্ছা বা মল ত্যাগের ইচ্ছা ।
৯. শরীর অবসাদ ।
১০. কিছু খাইলেই বমি ।
১১. রোগীর প্রচুর পরিমান জিদ ও ঈর্ষাপূর্ণ হয় ।
বৃদ্ধিঃ- প্রাতে, স্পর্শে, মানসিক পরিশ্রমে, শব্দে, খাওয়ার পর । হ্রাসঃ- সন্ধায়, বিশ্রামে, মুক্ত বাতাসে ।

১৫. Arsenicum Album ( আর্সেনিক এল্বাম ):-
*১. প্রচুর পানি পিপাসা, অল্প করে বার বার পানি পান করে, পানি পান মাত্রই বমি ।
*২. প্রচন্ড পরিমান খুত খুতে স্বভাবের, পরিস্কার থাকতে পছন্দ ।
*৩. অ্যাজমা রোগীদের শ্বাসকষ্ট মধ্যরাত্রে বৃদ্ধি পায় । শুয়ে থাকতে পারেনা কারন শ্বাস নিতে কষ্ট হয় ।
৪. প্রচুর জ্বলা পোড়া কিন্তু গরমে উপশম ।
৫. প্রচুর দুর্বলতা, অস্থিরতা ও মৃত্যুভয়, মানসিক ভাবে বেশি দুর্বল কিন্তু শারীরিক ভাবে শক্তিশালী । নড়াচড়া করতে চায়না
বৃদ্ধিঃ- মধ্যরাতে বৃদ্ধি, ঠান্ডা খাদ্যে, সর্দি লাগায় । হ্রাসঃ- মাথা ব্যাথা- ঠান্ডায় উপশম, গেটে বাত- গরমে উপশম, উত্তাপে জ্বলনে উপশম ।

১৬. Euphrasia ( ইউফ্রেশিয়া ):-
১. ক্ষতিকারক অশ্রুস্রাব ।
২. দিনের আলো বা সূর্যের আলোতে চোখ থেকে পানি পড়ে ।
৩. চোখ উঠা ।
বৃদ্ধিঃ- গরমে, রাতে ঘুমানোর সময় । হ্রাসঃ- ঠান্ডায় ।

১৭. Cina ( সিনা ):-
*১. দুধের মত সাদা প্রস্রাব ।
*২. কৃমি থাকে, ঘুমের ভিতর দাঁত কড়মড় করে ।
*৩. রাক্ষুসে ক্ষুধা, পেট ভরে খেলেও ক্ষুধা থাকে ।
*৪. মলদ্বার চুলকায় ।
৫. অনবরত নাক চুলকায় ।
৬. রাতে বিছানায় প্রস্রাব করে ।
৭. চোখের চারিদিকে নীল রঙের বলয় ।
৮. শিশুরা কোল থেকে নামতে চায়না ।
৯. মিষ্টি প্রিয় স্বভাবের ।
১০. শিশুরা খুতখুতে স্বভাবের হয় এমনকি কেউ স্পর্শ করলেও বিরক্ত হয়ে যায় । অনবরত কাঁদে ।
বৃদ্ধিঃ- রাত্রে, স্পর্শে । হ্রাসঃ- ভ্রমনে, শিশু কোলে উঠিয়া দোল খাইলে ।

১৮. Ipecac ( ইপিকাক ):-
*১. বমি ও বমনেচ্ছা ইহার প্রধান লক্ষন ।
*২. জিহ্বা পরিস্কার ও তৃষ্ণাহীনতা ।
*৩. শিশুদের বমি ছানার মত ।
৪. গর্ভাবস্থায় বমি বমি ভাব ।
৫. শ্বাসকষ্ট ও কাশি একসাথে থাকে । বুকের মধ্যে ঘড় ঘড়, সাঁই সাঁই শব্দ হতে থাকে ।
৬. মুখে প্রচুর পরিমানে লালা জমা থাকে ।
৭. রক্তস্রাব, টাটকা রক্তস্রাব নিঃসৃত হয় ।
৮. বাচ্চাদের হুপিং কাশি, নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কাইটিস ইত্যাদিতে বমি ও বমনেচ্ছার সাথে শ্বাসকষ্ট ।
বৃদ্ধিঃ- শীত ও শুষ্ক বাতাসে, সামান্য নড়াচড়ায় । হ্রাসঃ- শীতল পানি পানে, বিশ্রামে ।

১৯. Marc Sol ( মার্ক সল ):-
*১। প্রচুর পরিমানে ঘাম থাকে । ঘাম দুর্গন্ধযুক্ত । শরীরে যে কোন স্রাব দুর্গন্ধযুক্ত ।
*২. রাতে ঘুমানোর পর মুখ দিয়ে লালা পড়ে ।
*৩. মাথার ঘামে বালিশ ভিজে যায় ।
*৪. আক্রান্ত স্থান পাকিয়া পুঁজ হলে অদ্বিতিয় ঔষধ ।
*৫. মুখে যে কোন ধরনের ক্ষত, সহজে শুকায়না ।
৬. জিহ্বা মোটা ভারী, জিহ্বায় দাঁতের ছাপ থাকে ।
৭. দাতের গোড়ালী দিয়ে রক্ত পরে এবং পুঁজযুক্ত হলে ।
৮. উদরাময়ে মল সবুজ বর্ণ, ফেনাযুক্ত, পিত্তমিশ্রিত ।
বৃদ্ধিঃ- রাত্রে, বিছানার উত্তাপে, জলীয় বায়ুতে, হেমন্ত কালে, কাপড় খুললে । হ্রাসঃ- সংগমাদির পর, বিশ্রামে, কার্যের ভিতর ডুবে থাকলে ।

২০. Borax ( বোরাক্স ):-
*১। শব্দ ভীতি, শব্দাদির গোলযোগ সম্বন্ধে রোগী অত্যান্ত নার্ভাস । হঠাৎ শব্দে চমকে উঠে ।
*২. শিশুরা কোল হইতে পড়িয়া যাওয়ার ভয় ও বয়স্করা সিড়ি দিয়া নিচে নামিতে চায়না, নিম্নমুখী ভয় ।
*৩. সাদা স্রাব ভাঙে প্রচুর, ডিমের সাদা অংশের মত, গরম থাকে ।
৪. মুখের ভেতরে সাদা থকথকে ক্ষত । স্পর্শে ও আহারের সময় ক্ষত হতে রক্তপাত হয় । মাঢ়ীর উপর বেদনাপূর্ণ স্ফোটক ।
৫. শিশুরা দুগ্ধ পানের সময়, প্রস্রাব করার সময় কান্নাকাটি করে ।
৬. স্তন হতে অত্যাধিক পরিমানে দুগ্ধ ক্ষরণ ।
বৃদ্ধিঃ- নীচে নামিতে গেলে, হঠাৎ শব্দে, ধুমপানে, ভিজা বায়ুতে, প্রস্রাবের পূর্বে । হ্রাসঃ- চাপে, বেদনাযুক্ত স্থান চেপে ধরে রাখলে উপশম ।

২১. Natrum Mur ( নেট্রাম মিউর ):-
*১. শুকনা বিশেষ করে Clouical bone ।
*২. যোনি এত শুকনা যে সহবাসে কষ্ট হয় ।
*৩. অতিরিক্ত রোদ বা গরমে থাকার কারনে মাথা ব্যাথা ।
*৪. প্রচন্ড লবন প্রিয়তা ।
*৫. রোগী তীব্র মেজাজের, খিটখিটে স্বভাবের, অল্পতেই রোগী রেগে যায়, সান্তনায় বৃদ্ধি ।
*৬. মাথার চুল পড়ার প্রবনতা ।
*৭. অস্বাভাবিক আচরণ । এমন একজনকে ভালবাসে যা অসম্ভব, যা ভেবে তিনি আরও বেশী অবসাদ হয় ।
৮. রোগী প্রচন্ড চাপা স্বভাবের ।
৯. ছুলি যদি রোদে গেলে চুলকায় ।
১০. রোগী রক্ত সল্পতায় ভুগে এবং শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে ।
১১. ঋতু স্রাবের সময়ে মাথা ব্যাথা ।
১২. অস্বাভাবিক জিনিষপত্র খাইবার ইচ্ছা যেমন- শ্লেট, পেন্সিল, মাটি, ছাই ইত্যাদি ।
১৩. কোমড়ে ব্যাথা লেগেই থাকে ।
১৪. শরীরে যে সব শুকনা চুলকানি, খোস-পাচড়া, রোদ বা গরমে বৃদ্ধি পায় তাদের ক্ষেত্রে ফলপ্রসু ।
বৃদ্ধিঃ- লবণ খেলে, রোদ্র তাপে, মানসিক পরিশ্রমে, লেখা-পড়ায়, কথা বললে । হ্রাসঃ- খোলা বাতাসে, পেট ভরে না খেলে ।

২২. Pulsatilla ( পালসিটিলা ):-
*১. রোগী নম্র, ভদ্র, বিনয়ী ও স্থির প্রকৃতির ও সুন্দর চেহারার অধিকারী ।
*২. কান কটকটানি ও কানের ভিতর প্রদাহে ইহা অদ্বিতীয় ।
*৩. পিপাসাহীনতা ।
*৪. পরিবর্তনশীলতা, অতি দ্রুত মন বদলায়, রোগের লক্ষনও বদলাতে থাকে । সহজেই রেগে যায়, ভূলে যায় ।
*৫. অল্পতেই রোগী কেঁদে ফেলে ।
*৬. মাসিক কালীন তলপেটে ব্যথা, প্রচুর সাদাস্রাব, রক্তস্রাব পরিমান খুবই কম হয় । আবার বেশীও হয় ।
*৭. নরমাল ডেলীভারীর অন্যতম ঔষধ তবে প্রথম ও দ্বিতীয় মাসে গর্ভবতী নারীর সন্তান নষ্ট হওয়ার কারন বটে, গর্ভবতী মায়ের ৬/৭ মাস এর সময় ব্যাবহার যোগ্য ।
৮. মাসিক কালে পা ফুলে উঠে ।
৯. রোগী গরম সহ্য করতে পারেনা, রোগের শুরুর দিকে শীতকাতর থাকে পরে ধীরে ধীরে গরম কাতর হয় ।
১০. কোমর হতে জরায়ুর মুখ পর্যন্ত ব্যাথা ।
১১. গুরুপাক খাবার সেবনে পেটের পীড়া ও গোলযোগ ।
বৃদ্ধিঃ- উওাপে, গুরুপাক দ্রব্যে, গরমে, ঋতু পরিবর্তনে । হ্রাসঃ- খোলা বাতাসে, ঠান্ডায়, খাদ্য ও পানীয়ে ।

২৩. Sepia ( সিপিয়া ):-
*১. নারী রোগী দেখতে একদম পুরুষদের মত, স্তন, শরীরের পেছনের অংশ শরীরের সাথে মেলানো ।
*২. সকালে বেশি আসুস্থ বোধ হয় ।
*৩. স্বামী সহবাস অসহ্য হয়ে যায় ।
*৪. জরায়ু নিচের দিকে নেমে আসে, জরায়ু হতে রক্তস্রাব বের হয়, জরায়ু স্ফিত হলে ইহা ফলপ্রসূ ।
*৫. শরীর শুকনা এবং দুর্বল ।
৬. একটুতেই কেঁদে ফেলে ও নিজের প্রতি উদাসীন ।
৭. প্রচুর পরিমানে সাদা স্রাব ।
৮. স্বামী ভক্তি তার অন্যতম লক্ষন ।
৯. পুণঃ পুণঃ গর্ভ নষ্ট হয়ে যাওয়া ।
১০. সকল কিছুর জন্য নিজেকে দায়ী মনে করেন । অন্যকে দায়ী করা তার সংবিধানে নেই ।
বৃদ্ধিঃ- দুপরের পুর্বে, সন্ধ্যায় প্রাতে, পানি নাড়িলে । হ্রাসঃ- চলাফেরায়, সেকে, বিশ্রামে । পরবর্তি ঔষধঃ- বেলেডোনা ।

২৪. Antim Crud ( অ্যান্টিম ক্রুড ):-
১. জিহ্বায় সাদা পুরু প্রলেপ ।
২. বেশ মোটা হয়, ক্ষুধা প্রচুর ও অতিরিক্ত খাবার গ্রহণের ফলে পরিপাক শক্তি দুর্বল হয়ে পরে ।
৩. স্নান সহ্য হয়না .
৪. আহারে অরুচি, আহারের পর বমি ।
৫. পায়ের তলায় বেদনাযুক্ত কড়া ।
বৃদ্ধিঃ- খাবারের পর, টক খাবার । হ্রাসঃ- ঠান্ডায়, বিশ্রামে ।

২৫. Silicea (SiO2) ( সাইলেসিয়া ):-
*১. এর রোগ লক্ষণ আমাবস্যায় ও পূর্ণিমাতে বৃদ্ধি প্রাপ্ত হয় ।
*২. মন – মেজাজ খিটখিটে হয় ।
*৩. প্রস্তর বা মাটি খোদাইকারীদের ফুসফুস সংক্রান্ত পীড়া ।
*৪. টিকা দেওয়ার কুফল ।
*৫. পায়ে দুর্গন্ধযুক্ত ঘাম ।
*৬.হাজাজনক, ক্ষতকারক, দুধের ন্যায় দুর্গন্ধযুক্ত শ্বেত প্রদর ।
*৭. দুর্দম্য কোষ্ঠবদ্ধতা মল বাহির হইয়া আবার ভিতরে ঢুকিয়া যায় ।
*৮. শরীরে কোন কিছু ঢুকিয়া গেলে বাহির করিবার একমাত্র ঔষধ । যেমন – কাটা ফুটা, আলপিন, পেরেক, সূচ ইত্যাদীর এক অংশ দেহের ভিতর ভাঙ্গিয়া থাকিয়া যাওয়া ।
৯. শীতল খাদ্য ও কাচা ফলমূল খাইতে ইচ্ছা ।
১০. স্ত্যন্যদানকালে জননীর যোনির রক্তস্রাব ।
১১. দুগ্ধ ও মাংস সহ্য করতে পারেনা ।
১২. গরম খাদ্য বা রান্না করা খাদ্য খাইতে অনিচ্ছা ।
১৩. আলপিন বা সূচ লইয়া গভীর মন সংযোগসহ খেলা করা ।
১৪. সর্ববিধ নালীর ক্ষতে ।
১৫. জলের মধ্যে কাজ করার জন্য অতি ঋতুস্রাব ।

২৬. Sulphar ( সালফার ):-
*১. রোগী প্রচন্ড পরিমান অপরিস্কার, অপরিচ্ছন্নতা, যাহা শারীরিক ও মানসিক উভয় ক্ষেত্রে একই ধরনের ।
*২. হাত পায়ের তালু গরম হয়ে থাকে ।
*৩.রোগী নিজেকে অনেক বড় পন্ডিত মনে করে, কারো নেতৃত্ব তার সহ্য হয়না ।
*৪. গোসলে অনিহা, ময়লা কাপড় পড়তে অনিহা নেই ।
*৫. সকল ধরনের স্রাব অত্যন্ত দুর্গন্ধযুক্ত ও ক্ষতকর ।
*৬. ইহা চর্ম রোগের মহৌষধ ।
৭. দুধ তার মোটেও সহ্য হয় না ।
৮. রোগী প্রায়ই অর্শ রোগে ভুগে ।
৯. রোগীর হাত পা সরু সরু, পেটটি বড় ।
১০. সকালে ঘুম ভাঙে মলদ্বারে চাপবোধ এর কারনে ।
১১. শীতকালেও মাথা আবৃত রাখতে পারেনা ।
১২. কানে পুঁজ, নাকে সর্দি লেগেই থাকে ।
১৩. দাড়িয়ে থাকা অসহ্য মনে হয় ।

২৭. Acid phos ( এসিড ফস ):-
১. রোগী প্রচুর পরিমান অবসাদ বা উদাসীন হয়ে যায় ।
২. বয়সের তুলনায় বেশী বৃদ্ধ দেখা যায় ।
৩. দুধের মত সাদা প্রস্রাব বার বার নিসৃত হয় ।
৪. বার বার প্রস্রাব হয় যা ডায়বেটিস রোগীদের বেশী হয়ে থাকে ।
৫. মানসিক দুর্বলতাই বেশী থাকে ।
৬. জিহ্বার মাঝখানে রক্তবর্ণের রেখা ।
৭. প্রবল পিপাসা থাকবে ।
৮. অতিরিক্ত হস্তমৈথুন, স্ত্রী সহবাস, অপরিমিত ঋতুস্রাবের কারনে দুর্বল হয়ে পরা ।
৯. জননেন্দ্রিয় এত দুর্বল হয়ে পড়ে যে মল ত্যাগ কালেও বীর্যস্ফলন হতে থাকে ।

২৮. Thuja Oxi ( থুজা অক্সি ):-
*১। শরীরে যে কোন ধরনের অতিরিক্ত অংশ যেমন- টিউমার, আঁচিল, লাইপোমা ইত্যাদির বিকাশ ।
*২. গনোরিয়া চাপা পড়িয়া রোগের উৎপত্তি ।
*৩. প্রচুর পরিমানে হস্তমৈথুনের কুঅভ্যাস এমনকি ঘুমও আসেনা । অতিরিক্ত স্বপ্নদোষ ।
*৪. টিকা গ্রহন করা যে কোন ধরনের কুফলে ।
*৫. প্রচুর কোষ্ঠকাঠিন্য, আঙ্গুলীয় সাহায্যে মলত্যাগ । মলদ্বার পেটে যায় ।
*৬. মৃত ব্যাক্তির উড়িইয়া বা পড়িয়া যাওয়ার স্বপ্ন দেখে ।
*৭. আচিল দেখতে ফুলকপির মত ।
*৮. চা, পেঁয়াজ ও টক সহ্য হয়না ।
৯. যন্ত্রনাদায়ক অর্শে ইহা অত্যন্ত আরামদায়ক ।
১০. প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া, অল্প পরিমানে প্রস্রাব ।
১১. রক্তশূন্যতার অন্যতম ঔষধ ।
১২. বসন্ত রোগের প্রতিষেধক হিসেবে অন্যতম ।
১৩. প্রস্রাব দ্বার ফুলে ওঠে, পুঁজ পড়িতে থাকে ।
১৪. শূচিবায়ুগ্রস্থ স্ত্রীলোকদের যে কোন সমস্যায় ।
১৫. বামঅঙ্গে আক্রমন ।
১৬. স্ত্রী জননেন্দ্রিয় এত স্পর্শকাতর যে সহবাস সহ্য করতে পারেনা ।
১৭. প্রস্রাব চাপলে আর দাড়াইতে পারেনা বা বিলম্ব সহেনা ।
বৃদ্ধিঃ- ভিজা আবহাওয়ায়, রাত্রি ৩টা হইতে বৃদ্ধি । হ্রাসঃ- নড়াচড়ায় উপশম, গরম বায়ু প্রবাহে ।

২৯. Graphites ( গ্রাফাইটিস ):-
১. ফাটা চর্ম ও চটচটে রস ।
২. স্থুলতা ও কোষ্ঠবদ্ধতা ।
৩. নাকের পাতা, চোখের পাতা, মলদ্বার, স্তনের বোটা ফেটে যায় ।
৪. পায়খানার সাথে শ্লেষ্মা নির্গত হয় ।
বৃদ্ধিঃ- গরমে, রাতে । হ্রাসঃ- ঠান্ডা পানি, মুক্ত বাতাসে ।

৩০. Gelsimium ( জেলসিমিয়াম ):-
১. উচ্চ রক্ত চাপে ইহা ফলপ্রদ ।
২. হৃদস্পন্দন দ্রুত বেড়ে যাবে ।
৩. মাথা দপদপানি ব্যাথা ।
৪. প্রসবের সাথে রক্ত সঞ্চালিত হবে ।
৫. অল্পতেই শরীর দুর্বল হয়ে যায় ।

৩১. Uranium nit ( ইউরেনিয়াম নাইট ):-
১. বহুমূত্রজনিত দারুন পিপাসা ও ক্ষুধা ।
২. প্রচন্ড পরিমান শরীর শুকাইয়া যায় ।
৩. পাকস্থলীর ক্ষতজনিত মুখ দিয়া রক্ত ওঠা ।
৪. ধ্বজভঙ্গ, শারীরিক দুর্বলতা জনিত কারনে ব্যবহার হয় ।

৩২. Lidum Pol ( লিডাম পল ):-
১. পুরাতন বাত, সন্ধিবাত, আঘাত ইত্যাদিতে কার্যকর ।
২. তরুণ বাত রোগে সন্ধি ফুলিয়া উত্তপ্ত হয় – রাত্রে বা বিছানার উত্তাপে বৃদ্ধি হয় ।
৩. বাত রোগ নিম্নদেশ থেকে উপরের দিকে অগ্রসর হয় ।
৪. সাপ, বিচ্ছু, বিষাক্ত পোকা-মাকড়, মশা ইত্যাদির কামড়ে ইহা ব্যবহৃত হয় ।
৫. কেটে গেলে, পেরেক বা সূচাল কোন কিছু বিঁধলে বা পুরান মরচে পড়া কোন বস্তুতে কেটে গেলে উপযোগী।
৬. গাত্রের শীতলতা ও আক্রান্ত স্থানের স্বাভাবিক উত্তাপের হ্রাস ।
বৃদ্ধিঃ- সন্ধ্যায়, রাত্রে, মদ্যপানে, উত্তাপে, মাথার চুল কাটিলে, বিছানার উত্তাপে । হ্রাসঃ- ঠান্ডা পানিতে, বিশ্রামে ।

৩৩. Ignesia ( ইগনেশিয়া ):-
১. অবরুদ্ধ মনোভাব জনিত অসুস্থ্যতা । কারো কাছে তার মনের কষ্ট প্রকাশ করতে পারেনা ।
২. চোখের কিনারায় পানি লেগেই থাকে, কেননা মনে প্রচুর কষ্ট চেপে রাখে ।
৩. শোক ও উদ্বোগ এর কুফল ।
৪. নির্জন প্রিয়তা ও দীর্ঘ নিঃশ্বাস ।
৫. সান্তনায় বৃদ্ধি, মানসিক পরিবর্তনশীলতা ।
বৃদ্ধিঃ- প্রাতে, মুক্ত বাতাসে, আহারান্তে, কফি পানে, ধুমপানে, তরল পদার্থ পানে । হ্রাসঃ- ভোজনকালে, শরীরের অবস্থার পরিবর্তনে উপশম ।

৩৪. Spigelia ( স্পাইজেলিয়া ):-
১. হৃদরোগ যুক্ত রক্তচাপ বৃদ্ধি, নড়াচড়ায় বেড়ে যায় । ২. হৃদস্পন্দন বাহির হতে দেখা যায় । ৩. ঘড় ঘড় শব্দ অনুভূত হয় ।
৪. প্রচন্ড মাথাব্যাথা এবং নড়াচড়ায় বৃদ্ধি । ৫. বাম দিকে যে কোন অঙ্গে ব্যাথা ।